প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর নিউমার্কেটের এলাকায় চাঁদা আদায়, দোকান দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। জানা গেছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এই আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৮ জন সদস্য এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের গ্রুপের ৭ জন সদস্য রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, অন্যদের পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনার পর, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এ ঘটনার শুরু এবং দায়ভার নিয়ে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে একেবারে ভিন্ন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদল উল্লেখ করে, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের অনুসারী মো. সোহেল এবং আজিম, যিনি ‘গুন্ডা আজিম’ নামে পরিচিত, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতের দোকান ও ভ্যানগাড়ি থেকে জোরপূর্বক চাঁদা তুলতে গিয়েছিলেন।
জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন সেখানে গিয়ে চাঁদা আদায়ে বাধা প্রদান করলে, দুই পক্ষের মধ্যে উন্মত্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল লাঠি, রামদা, চাপাতি, এবং চাইনিজ কুড়াল।
ভুক্তভোগী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সুমন সিকদার জানান, ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে তারা চাঁদাবাজির ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন, প্রতিবাদ জানালে তাদের গালাগাল করা হয় এবং পরে সশস্ত্র হামলার শিকার হন।
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. সায়মন ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় বলাকা হলের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা চাঁদা দাবি করেন এবং দোকানদারের খবরের ভিত্তিতে তারা সেখানকার দিকে গিয়েছিলেন। সেখানে যুবদল সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে হামলার সম্মুখীন হন এবং তার মাথায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাগর খান জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা দেখতে পান, ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে গুরুতর আহত ৮ জনসহ মোট ১০-১২ জন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার (২৬), মো. সুমন সিকদার (২৮), আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাগর খান (৩২), সায়মন ইসলাম (২৭), সদস্য মুসফিকুর রহিম (২৬), জিহাদুল ইসলাম (২৯), শাকিব হাসান (২৭) এবং ইমরান হোসেন (২৫)।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ছাত্রদলের নেতারা।
অন্যদিকে ছাত্রদলের তোলা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে নিউমার্কেট থানা যুবদল। তাদের তরফ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, তারা কোনো চাঁদাবাজি বা দোকান দখলে জড়িত নয়।
যুবদল নেতাদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার বিকালে মার্কেট বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সদস্য নিউমার্কেটের কিছু দোকান দখল এবং দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন।
নিউমার্কেট থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রহিম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল, সদস্য আজিম পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক চায়না সুমন জানিয়েছেন, মার্কেট বন্ধ থাকায় তারা সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ছাত্রদলের চাঁদাবাজির চেষ্টা গিয়ে তাদের কাছে ‘দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি চলবে না’ বলে তারা বিষয়টি মীমাংসা করে সেখান থেকে সরে যান।
যুবদল নেতাদের অভিযোগ করতে গিয়ে তারা বলেন, পরে প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের গলিতে অবস্থিত যুবদল কার্যালয়ে গিয়ে বসার সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ৭০ থেকে ৮০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে হামলা এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
এ সময় কার্যালয়ে থাকা টেলিভিশন, আসবাবপত্রের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলমের ছবিগুলো ভাঙচুর করে ছিঁড়ে দেয়।
যুবদল আহতদের মধ্যে নাম পাওয়া গেছে—কাঁটাবন ইউনিট যুবদলের সদস্য মো. জাকির হোসেন, এলিফ্যান্ট রোড ইউনিট যুবদলের সদস্য মো. সুজন, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সাবেক সদস্য মো. সোহেল, সুমন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য শাহ আলম, ইদ্রিস, রাকিব এবং নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুমন মিয়া।
যুবদল নেতারাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি করেছেন এবং থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ ঘটনা নিয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিউমার্কেট এলাকায় মারামারির খবর পাওয়া গেছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পুলিশ খবরটি গুরুত্ব সহকারে তদারকি করছে এবং এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন