প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক।
ওয়াসিম বাংলাদেশের এই জয়কে ‘এপিক’ বা মহাকাব্যিক জয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি এবং দলটির অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কথাও সামনে এনেছেন।
ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের কী দারুণ এক জয়! এই জয় দেখিয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করেছে এবং তাদের অগ্রাধিকার এখন কোথায় রয়েছে।’
বাংলাদেশের এই জয়ে দলের প্রায় সকল সদস্য অবদান রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন ওয়াসিম। বিশেষভাবে তিনি ওপেনার তানজিদ হাসানের প্রশংসা করেছেন।
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তানজিদ। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
তানজিদের সেঞ্চুরি নিয়ে ওয়াসিম বলেন, ‘সবাই কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছে। ওপেনার তানজিদ দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি করেছে।’
তবে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের ব্যাপারে ওয়াসিম সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট নিয়ে তার শিকার দাঁড়ায় ৯টি। ফলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও হাসানের হাতে ওঠে।
হাসানের বোলিং নিয়ে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার বলেন, ‘হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে আমি খুবই মুগ্ধ। সে দারুণ লেংথে বল করেছে। খুব বিশেষ কিছু করার চেষ্টা করেনি, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যে সঠিক লেংথে বল করতে হয়, সেটাই করেছে।’
ডারউইনে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে চাপে রেখেছিল। হাসানের ৬ উইকেটের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে।
এরপর তানজিদের সেঞ্চুরি, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রান এবং অন্যান্য ব্যাটারদের অবদানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তোলে ৪২৬ রান। ২২৮ রানে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা করলেও মিরাজের ৫ উইকেট ও হাসানের আরও ৩ শিকারে ২৮৪ রানে অলআউট হয় তারা। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
চতুর্থ দিনে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে সেই রান টপকে যায় বাংলাদেশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয় অর্জনের ইতিহাস রচনা করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারায় বাংলাদেশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন