প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যবর্তী যমুনা নদীর ওপর ‘দ্বিতীয় যমুনা বহুমুখী সেতু’ নির্মাণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গত কাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি’র উদ্যোগে চরাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— যমুনা নদীর দুই চ্যানেলে পৃথক দুটি সেতু নির্মাণ এবং মাঝখানের স্থায়ী চরে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন, চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং যমুনার চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ও বক্তব্য রাখেন সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাবু।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশু, বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহিন, আশরাফুল ইসলাম টিটু, মশিউর রহমান, সাদেকুল ইসলাম মনির, মাজেদুর রহমান মাজু এবং জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও চরাঞ্চলের মানুষের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর সরকার, সমাজসেবক ওহিদুল ইসলাম জয়, সামছুল হক, কচুয়াহাট ছিন্নমূল সমিতির প্রতিনিধি দুলু মিয়া এবং প্যানেল চেয়ারম্যান জিহাদুর রহমান মওলা। এ সময় চরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যবহৃত এই ঐতিহাসিক যোগাযোগ রুটটি পুনরায় চালু করা হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর যানবাহনের অতিরিক্ত চাপও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ দ্রুত ‘দ্বিতীয় যমুনা বহুমুখী সেতু’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে এ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন