প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য (এমপি) এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, লং মার্চে যদি কোনো বাধা সৃষ্টি হয়, তবে তারা তা গ্রহণ করবেন না। সেই বাধাকে উপেক্ষা করে তারা রংপুরের দিকে অগ্রসর হবেন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার যেন জনগণের দাবি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে। অন্যথায়, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরে দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা টু রংপুর লং মার্চের জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ ২৬৫ আসন পেয়েছিল এবং তাদের বন্ধু দেশ নিয়ে গর্ব করতো। পুলিশ ও আর্মিসহ সকলকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকতে পারেনি এবং দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জনগণ বলছে, আওয়ামী লীগ পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু বিএনপি কোথায় পালাবে? এজন্য সরকারকে বলবো, জনগণের কথা শুনুন এবং দেওয়ালগুলোর দিকে তাকান, জনগণ কি লিখছে।
তিনি আরও বলেন, হাসিনার মতো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে অবহেলা করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। দাবি না মানলে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি দেশবাসীকে জানাতে চান, আসুন দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চ সফল করি। সরকারের কাছে দাবি জানাতে চান যে, জনগণের চাওয়াকে উপলব্ধি করে আগামী সংসদে সংবিধান সংস্কারের শপথ নিন, অথবা সংবিধান সংস্কারে ঐক্যমতের ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, দেশে তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল। সরকারি দল এবং বিরোধীদল মিলে মিটিং করে আমরা দুই দিনের মধ্যে তা সমাধান করেছি। বিদ্যুতের সংকটের সময় জামায়াতের আমির সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলে সংকট সমাধানের কথা বলেছিল, কিন্তু সরকারি দল কোনো কর্ণপাত করেনি। সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাস হয়েছে, যা ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী। সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছে। এছাড়া চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। লং মার্চের দাবিগুলো জামায়াতের নয়, এটি জনগণের। তাই জনগণ এ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, জামায়াতে ইসলামীর দিনাজপুর-রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক সামসুল হকসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় ঐক্যের ঢাকা টু রংপুর লং মার্চ শুরু হবে এবং সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশ সফল করতে রংপুর জিলা স্কুলে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জেলাজুড়ে মাইকিং, তোরণ নির্মাণ, দেওয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যানার-পোস্টার টানিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন