প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুনভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে। সম্প্রতি ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে নতুন বিধিমালা সম্পর্কিত গেজেটটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রণীত নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।
এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গেজেট আকারে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে মিছিল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
এছাড়া ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে যে, কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার করা যাবে না। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে নতুন বিধিমালায় ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার বা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ থাকবে।
এদিকে নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করা বা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। নতুন বিধিমালায় ইসির ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি ভঙ্গ করলে বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন