প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে একজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজের সংবাদ প্রকাশ করায় এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হাজীগঞ্জ বাজারস্থ মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটন এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে যে তিনি স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর করেন। আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ, যিনি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবর পত্রিকার চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসাবে পরিচিত। খবর পাওয়ার পর হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হলুদ পট্টির ঘরের নিচতলা হাজী আনোয়ার মঞ্জিল থেকে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। তারা অভিযুক্ত ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাজীগঞ্জ আনোয়ার মঞ্জিল ও মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে লোকমুখে পতিতাবৃত্তি এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনাতে, গত শনিবার ওই হোটেল থেকে নিখোঁজ এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবাসিক হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও অভিযোগ রয়েছে যে হোটেলটি অমান্য করে অনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখানে অনৈতিক কাজে জড়িত এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করে। সংবাদ যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়, তখন সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ ওই অনৈতিক কার্যক্রমের ওপর সংবাদ প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক হোসেন লিটন অজ্ঞাতনামা ভাড়া করা ১০/১২ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অফিসে যান এবং সেখান থেকে সাংবাদিককে তুলে তার আবাসিক হোটেলে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার পর সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে টেনে হেঁচড়ে ও মারধর করে তুলে নেওয়ার সময়ের বিভিন্ন স্থানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এ বিষয়ে সচেতন মহল এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তিনি আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দেন।
এ নিয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান নিশ্চিত করেন যে, “অভিযুক্ত ২ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্য নামীয় আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ইউএনও-এর নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনার জন্য মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করেন। সেই সময়ে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান এবং হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম।
এদিকে সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদকে টানাহেঁচড়া ও মারধর করে তুলে নেওয়ার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে এ ঘটনা নিয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাব, স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন