প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঊরুর চোটের কারণে থিবো কোর্তোয়া পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি স্পেনের বিপক্ষে। ছবি: ফিফা
টাইম মেশিনে চেপে ৮ বছর আগের জুলাইয়ে ফিরে যাওয়া যাক। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ঘটনাটি।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে তখন ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল।
কাজানের ম্যাচের শেষ দিকটিতে নেইমার জুনিয়র একটি বাঁকানো শট নেন। বলটা ডান দিকের কোণ দিয়ে বেলজিয়ামের জালে প্রবেশ করতে একটা বৈপ্লবিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সুপারম্যানের মতো লাফিয়ে উঠে তা ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়।
ব্যস, ব্রাজিলের সমতা ফেরার যে সম্ভাবনা ছিল, তা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা তৈরি করে নেয় বেলজিয়াম।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এভাবেই নেইমারকে গোলবঞ্চিত করেছিলেন কোর্তোয়া। ছবি: ফিফা
৮ বছর পর, আরেক জুলাইয়ে, বেলজিয়াম হয়তো আবারো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারত। লস অ্যাঞ্জেলেসে এবারের ম্যাচে সম্ভবত কোর্তোয়া ‘সুপার হিরো’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন স্পেনের বিপক্ষে।
লামিনে ইয়ামালকে একাধিকবার হতাশ করার পর, প্রায় ‘পয়েন্ট ব্ল্যাক রেঞ্জ’- থেকে নেওয়া মিকেল ওইয়ারজাবালের শট রুখে দিতে প্রস্তুত ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা গোলকিপার কোর্তোয়া।
কিন্তু হঠাৎ করে ঊরুর চোটে পড়ে মাঠে লুটিয়ে পড়লেন কোর্তোয়া। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেওয়ার পর উঠে দাঁড়ালে আশা করা হচ্ছিল, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন।
কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।
৭২ মিনিটে কষ্টের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া। ৮ বছর আগে যিনি নেইমারের ব্রাজিলকে কাঁদিয়েছিলেন, আজ তিনিই চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন। জার্সি তুলে দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করেও সে কান্না আড়াল করতে পারলেন না!
কোর্তোয়া মনে হয় তখনই বুঝে গিয়েছেন, ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ১৮ মিনিট বাকি থাকতে মাঠ ছাড়ার পর তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্নও শেষ হয়ে যেতে হবে।
এমনি হলো। থিবো কোর্তোয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে যিনি ধরা হচ্ছিলেন, সেই সেনে লামেন্স কোর্তোয়ার বদলি নেমেও তার রেখে যাওয়া কাজটুকু সম্পন্ন করতে পারেননি। বরং একটি বড় ভুল করে বসেন।
পাউ কুবারসির নিচু শট ঝাঁপিয়ে আটকালেও বলটিকে হাতে রাখতে পারেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলকিপার লামেন্স। তখনই ধেয়ে এসে স্পেনের ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো বলটিকে জালে পাঠিয়ে দেন। লামেন্সের ভুলের জন্য বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে। অথবা আমরা বলতে পার, কোর্তোয়ার চোটের জন্য বেলজিয়ামের কপাল পুড়ল।
থিবো কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন সেনে লামেন্স। ছবি: ফিফা
দ্য অ্যাথলেটিকও একই কথা বলছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, থিবো কোর্তোয়ার চোট স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের হারে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ গোলকিপার একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন।
ঊরুর চোটের জন্য কোর্তোয়া শুধু গোলকিক নিতে পারছিলেন না। বাকি কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে করতে পারছিলেন। তাই তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া কোর্তোয়াকে আর খেলাতে চাননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘এটাই শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল। এমন ম্যাচে ভালো খেলতে হলে পুরোপুরি মনোযোগী থাকতে হয় এবং শতভাগ ফিট থাকতে হয়। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ১০০ শতাংশ ফিট নয়—এমন কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে রাখব না। আজ কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’
গার্সিয়া সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপজুড়ে কোর্তোয়া দুর্দান্ত খেলেছে। কিন্তু আমরা চাইনি তার চোট আরো গুরুতর হয়ে উঠুক। তাই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’
কোচের যুক্তি কিছুটা সঠিক হলেও পুরোপুরি সঠিক নয়। দেশের প্রতি নিবেদন দেখিয়ে যে মানুষটা খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তাকেও যদি ১৮ মিনিট কিংবা পুরো ম্যাচ খেলতে দেওয়া হতো, তাহলে কী এমন ক্ষতি হতো!
চোটে পড়ার পর কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন কোর্তোয়া। ছবি: ফিফা
এবারের বিশ্বকাপে কোর্তোয়া ১০টি সেভ করেছেন। এটি ছিল তার বিশ্বকাপের ২১তম ম্যাচ। গোলকিপারদের মধ্যে বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি ম্যাচে খেলেছেন কেবল একজন—জার্মানির মানুয়েল নয়্যার; তিনি ২৩ ম্যাচ খেলেছেন।
কোর্তোয়ার বয়স ৩৪ পেরিয়েছে। ২০৩০ সালে, বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৩৮ বছর। ৪০ বছর বয়সেও কেপ ভার্ডের ভোজিনিয়া যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন, তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কোর্তোয়া পরের বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেন। নয়্যারকে ছাড়িয়ে তিনিই হতে পারেন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলকিপার।
তবে তার আগে ভেঙে পড়া কোর্তোয়ার মনটা যে আবারো জোড়া লাগাতে হবে সেটা তো নিশ্চিত!
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন