প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে বদলি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা করার ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহারের জন্য এই নির্দেশনা জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে গত ১২ জুন সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের আলোচনায় আসেন। এর অংশ হিসেবে, তিনি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাজারে পূর্ববর্তী দানবাক্স সিলগালা করে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া, মানুষদের দানের অর্থ রাখার জন্য ঐতিহাসিক তিনটি দানের 'ডেগ' সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার অনেকেই প্রশাসনের মাধ্যমে দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মাজারের ভক্ত এবং অনুসারীরা জানান, গত প্রায় সাত বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালনা করা হচ্ছিল, সেই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দানবাক্স সিলগালা করার প্রক্রিয়া সঠিক পদ্ধতি নয়, যা মাজার ও অলি-আউলিয়ার বিরুদ্ধে কার্যক্রম বলেও মত প্রকাশ করেন তারা।
গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান সারওয়ার আলম। তার আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে জেলা প্রশাসক পর্যায়ে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন