প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঘটে যাওয়া তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশ ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলমকে আটক করেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে, দেবীদ্বার থানা পুলিশ উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খোরশেদ আলমকে আটক করে। তার বয়স ৫০ বছর এবং তিনি ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মৃত শব্দর আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে বরকামতা ইউনিয়নের ১১৫ নম্বর ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই দুপুরে বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস চলাকালীন ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার মায়ের কাছে জানায়।
এই ঘটনার পাশাপাশি, এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন বিকেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বের করে মারধর করে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজারেও তাকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। ওখানে, একটি চায়ের দোকানে তাকে আটক করা হয়েছিল। এরপর রাত ১১টার সময় দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় খোরশেদ আলমের ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেন। হামলা, মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলার আসামিরা গত ৯ আগস্ট আদালত থেকে জামিন পেয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে খোরশেদ আলমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভুক্তভোগী ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড হয়।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক ও ছাত্রীর বক্তব্য সংবলিত একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্ষমা চাইতে শোনা যায়। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করেছে, শিক্ষক একাধিকবার তার বুকে হাত দিয়েছিল এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে বলা হয়েছিল।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক খোরশেদ আলম পলাতক ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিদ্যালয় ছুটির পর ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। পরে শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন