প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টায় নাগেশ্বরী থানা গেটের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে “ঘুষখোর ইদ্রিস আলীর প্রত্যাহার চাই” শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদে চলে যায় মানববন্ধনকারীরা। এ সময় তারা মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানায়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দুটি আলাদা স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মাধাইখার কুমরিয়ারপাড় এলাকার ভেতর দিয়ে সাবেক একটি রাস্তা দিয়ে অনেক দিন ধরে এলাকার কয়েকশ পরিবার যাতায়াত করে আসছিল। हाल हीতে ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাটি পাকা করতে মাপামাপি শুরু করলে স্থানীয় খলিল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মুকুল মিয়া মেইন রাস্তা থেকে প্রায় ৮০ ফুট রাস্তা বাঁশ বেধে বন্ধ করে দেয়। এই কারণে এলাকার হাজারও মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। স্থানীয়রা একাধিকবার রাস্তা খুলে দেওয়ার জন্য তাদের সাথে বৈঠক করেছে, কিন্তু তারা রাস্তাটি খুলে না দিলে নিরুপায় হয়ে পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা বের করে চলাচল করতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ১৭ মে এলাকার এমদাদদুল হক, শামছুল হক, হাবিবুল ইসলাম ও আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তার অভিযোগ ছিল যে, রাস্তা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকার গাছ কেটেছেন বিবাদীরা। এছাড়াও ১৩ জুন দুই বিঘা জমির প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পাট ক্ষেত নষ্ট করার দাবী জানিয়ে এমদাদুল হক, শামছুল আলম, রেজাউল করিম ও আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলীর ওপর। কিন্তু জানা যায় যে, এসআই ইদ্রিস তদন্ত না করে মামলা দুটি রেকর্ড করেন। মামলায় উল্লেখিত স্বাক্ষী এছাব উদ্দিনের ছেলে উকিল আমিনের দাবী, তিনি মামলার ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তার স্বাক্ষীত্ব দেওয়া নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এসআই ইদ্রিস আলী মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার লোকজনকে হয়রানি করে যাচ্ছেন এবং আদালতের মাধ্যমে নোটিশ জারি করে তা গোপন রেখে আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। এ অবস্থার কারণে মামলার ভয়ে অনেকেই স্ত্রী ও সন্তানছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সময় তারা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলাকারী হাফিজুল ইসলামের শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান স্বপন, স্থানীয় উকিল আমিনসহ অনেকে। বহু মানুষের অভিযোগ, এসআই ইদ্রিস আলী অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ঘুষখোর পুলিশ সদস্য। টাকা পেলেও তিনি দিনকে রাত বানিয়ে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে এরকম অসংখ্য অভিযোগ উঠে আসছে। নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলী বলেন, আমি দুই মাস আগে আদালতে প্রসিকিউশন দিয়েছি। আদালত ওয়ারেন্ট জারি করেছে। আমি তিনজনকে ধরে কোর্টে পাঠিয়েছি। এখানে আমার কী করার আছে? আমি কোন ভুল করি নাই। উনি অপরাধ করেছে এবং মানুষের গাছপালা কাটছে। উনি আদালতে প্রমাণ করুক যে এই ঘটনা মিথ্যা। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান জানান, এসআই ইদ্রিসের বিরুদ্ধে যে মানববন্ধন হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং ইর্ষান্বিত হয়ে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন