প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উজানে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানির বৃদ্ধি ঘটছে। যে পানি বিপদসীমার কাছে পৌঁছাচ্ছে। ইতোমধ্যেই নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করা শুরু করেছে।
বর্তমানে নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, বলেছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
রংপুর অঞ্চলের ৫টি জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার নদীপাড়ের মানুষ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যার আশঙ্কা করছেন। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও, যদি এই অবস্থা অব্যাহত থাকে তবে আগামীকাল রবিবার সকালে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এর ফলে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের কৃষকদের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯ টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপচেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯ টায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার রেকর্ড ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট ভারত খুলে দেয়ার কারণে তিস্তার পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বেড়ে চলেছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় পানির পরিমাণ ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যেকোন সময় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অমিতাভ চৌধুরী বলেন, 'যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে তাই তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।'
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। নদীর পানি এভাবে বাড়ছে, এতে যেকোন সময় বন্যা হতে পারে।
কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের চর ইতোমধ্যে নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন, তবে পানির আরও বৃদ্ধি পেলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। গত কয়েকদিন বৃষ্টি না পড়লেও প্রত্যেক রাতে বৃষ্টি হচ্ছে এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি উচ্ছলভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।
মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানিয়েছেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার ফলে তিনি মনে করছেন এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। আমন ধানের চারার তৈরিকৃত বীজতলাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী জানিয়েছেন, তার আবাদকৃত দেড় বিঘা জমির বাদাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি স্থায়ী হলে তিনি বড় লোকসানে পড়বেন।
চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী জানান, তাদের চরগুলোতে বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ করা হয়েছিল কিন্তু পানির বৃদ্ধি হয়ে সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে আছেন।
রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন