প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর কোরিয়া নতুন করে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণ করেছে প্রধান পরমাণু কমপ্লেক্স ইয়ংবিয়নে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জানিয়েছে, এখানে সর্বোচ্চ ২৮টি সেন্ট্রিফিউজের সারি স্থাপন করা সম্ভব। একই সময়ে, পিয়ংইয়ংয়ের নিকটবর্তী কাংসন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশেও কাজ শুরু হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
আইএইএ-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ধীরে ধীরে একাধিক স্থানে তার পরমাণু কর্মসূচির অবকাঠামো বৃদ্ধি করছে। ভিয়েনা ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থা ২৮ আগস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজর রাখতে আইএইএ উপগ্রহের ছবি এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এই তথ্যগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০০৯ সালের পর থেকে উত্তর কোরিয়ায় আইএইএর কোনো পরিদর্শক যেতে পারেননি। ফলে বর্তমানে দেশটির পরমাণু স্থাপনাগুলোর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রধানত উপগ্রহের ছবি ও প্রকাশ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। আইএইএ ইয়ংবিয়নে একটি নতুন দ্বিতল ভবনের সন্ধান পেয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, এটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার দ্বিতীয় স্থাপনা হতে পারে। কিম জং উন জুন মাসে ইয়ংবিয়ন পরমাণু কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ভবনটির নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ের উপগ্রহের ছবি মিলিয়ে আইএইএ এই ধারণা তৈরি করেছে।
আইএইএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিম জং উনের সফরের সময় প্রকাশিত ছবিতে ভবনটির ওপরের ও নিচের দুই তলাতেই গ্যাস সেন্ট্রিফিউজের সারি দেখা গেছে। সেন্ট্রিফিউজ এমন একটি যন্ত্র, যা ইউরেনিয়ামকে আরও বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি, উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরমাণু অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আইএইএর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছবিতে দেখা ধরনের সর্বোচ্চ ২৮টি সেন্ট্রিফিউজের সারি নতুন ভবনটিতে স্থাপন করা সম্ভব। এর ফলে ইয়ংবিয়নে উত্তর কোরিয়ার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রেও নতুন কার্যক্রমের ইঙ্গিত পেয়েছে আইএইএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, কেন্দ্রটির সম্প্রসারিত অংশে জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্প্রসারিত অংশটি ২০২৪ সালে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে কার্যক্রম শুরু হওয়ার লক্ষণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইএইএ। অর্থাৎ, উত্তর কোরিয়া একই সময়ে দেশের একাধিক পরমাণু স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএইএ বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিতে এসব নতুন উন্নয়ন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার আইএইএর গভর্নরস বোর্ডের কাছে দেওয়া একটি বিবৃতিতে তিনি বলেন, কাংসন ও ইয়ংবিয়নের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে চলমান কার্যক্রম এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী পরমাণু উপাদান উৎপাদন আরও বাড়ানোর খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রোসির এই বিবৃতির সঙ্গে আইএইএর বিস্তারিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র:
,
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন