প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক দর্শন, জনগণের ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আজও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মন্তব্যটি করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (সিআরএনডি) আনুষ্ঠানিক যাত্রার উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি গ্রন্থ প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ এবং গবেষণার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। একই সঙ্গে, একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে একাডেমিক গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচনের সূচনা করেছে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রূপকার এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের আপসহীন দেশপ্রেম, বাস্তবমুখী রাষ্ট্রচিন্তা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হয়ে রয়েছে।
অতিরিক্ত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমধর্মী এবং মৌলিক প্রয়াস। অতীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনা হয়েছে; তবে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে বিশ্লেষণের জন্য এমন বিস্তৃত প্রচেষ্টা খুব কমই দেখা গেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই গ্রন্থে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেবল রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বিত একটি রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, গ্রন্থটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে গবেষণাযোগ্য একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা। এর ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা অধ্যয়ন এবং উন্নয়ন গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে সৃষ্টি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন