প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গত দুই মাসে হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, বজ্রপাত, মাটিধস, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটে ১৯ জন নারী-পুরুষের। এর মধ্যে ২৪ মে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের ইউসুফ শরীফ এবং একই দিনে টিকিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমের হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৩০ মে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে মাটি চাপায় রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদারের মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদার ম্যাগনেটিক পিলারের সন্ধানে মাটি খুঁড়তে গিয়ে নিহত হন, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে খুন হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করে। এছাড়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের একাধিক মামলার আসামী ইউসুফ শরীফ লোকসম্মুখে খুন হয়ে যান। পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমের হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনা হিসাবে বিবেচিত হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে থানার পুলিশ সক্ষমতা দেখিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নে ফুলঝুড়ি গ্রামের আরাফাত নামে এক যুবকের স্ত্রীর সাথে অশ্লীল কার্যকলাপের চেষ্টার অভিযোগে ইউসুফ শরীফকে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে আরাফাত। এছাড়াও, পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তার অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে মা মিনারা বেগম কুঠার দিয়ে আঘাত করে ছেলেকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় থানার পুলিশ কাইয়ুমের মা মিনারা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। মিনারা বেগম ছেলে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানান মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রবিউল ইসলাম।
এছাড়া, তথ্যপ্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া তুষখালীর জানখালী গ্রামের নবী হোসেন মোল্লার পুত্র মো: হাসান মোল্লার লাশ ২রা মে নদী থেকে উদ্ধার করেন থানার পুলিশ। ৬ মে শহরের ৫নং ওয়ার্ডের গয়ালীপাড়া (কল্লাকাটা) ব্রিজ সংলগ্ন একটি ভাড়াটিয়া বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন সুখী রানী নামে এক নারী। ১০ মে উপজেলার উত্তর মিঠাখালী নিজ বসত ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন মোসা: খালেদা বেগম নামের অপর এক নারী। এছাড়া, ১৭ মে বসত ঘর সংলগ্ন পুকুরের পানিতে ডুবে নিহত হন উপজেলার উদয়তারা বুড়িরচর এলাকার কামাল মোল্লার দেড় বছরের শিশু পুত্র আলভী। ২৩ মে দুপুরে বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন শাহাদাৎ হোসেন (২৫) নামে এক যুবক। অপরদিকে ২৯ মে পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায় বাদুরতলী গ্রামের হাসান গাজীর ১৭ মাস বয়সী শিশু পুত্র মো: রায়হান গাজী। আরও উল্লেখযোগ্য, ১ জুন গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যান উপজেলা বেতমোর ইউনিয়নের জানখালী গ্রামের আমিন হাওলাদারের পুত্র মো: রিয়াজ হাওলাদার (৪০)। ৫ জুন দুপুরে বজ্রপাতে নিহত হন উত্তর সোনাখালী গ্রামের মৃত আবুল হাসেম জমাদ্দারের পুত্র মো: সোহরাব জমাদ্দার। ৬ জুন বিকেলে চালের পোকা নিধন ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বেবী বেগম (৫০) নামে এক মহিলা। ১৫ জুন বিষপানে আত্মহত্যা করেন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কামরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া উত্তর পাতাকাটা গ্রামের আসাদুল হাওলাদারের পুত্র রাকিব (২০)। ১৭ জুন উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের কচুবড়িয়া গ্রামের দুলাল আকনের ৪ বছরের পুত্র মো: ইসা পানিতে ডুবে মারা যায়। ১৮ জুন দুপুরে উপজেলার উত্তর সোনাখালী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস নামে এক নির্মাণ শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। অপরদিকে ১৯ জুন উপজেলার ভেচকী গ্রামের একটি নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা দুই সহদর আব্দুর রহমান (৮) ও আব্দুর রহিম (৩) পানিতে ডুবে মারা যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন