প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের নতুন হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিমান হামলার জন্য অনুরোধ করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, হুতিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা এবং ট্যাংকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা বৃদ্ধি করেছে। তারা সৌদি ভূখণ্ডের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অঞ্চলে হুতিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, ফলে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, সৌদি আরবকে সরাসরি সহায়তা না করার মার্কিন সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা আশা করতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আড়ালেই থাকছেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দোটানায় রয়েছেন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ ও বিভিন্ন স্থাপনার ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোর সামরিক অভিযানে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরে হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সৌদি আরব সহায়তা চেয়েছে। তবে হুতিদের হামলার জবাবে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে ওয়াশিংটন এবার ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। সৌদিকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এসব যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, রিয়াদ বারবার ওয়াশিংটনের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর জন্য অনুরোধ করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সম্পর্কে টানাপোড়েন
এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে। যদিও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তবে সেখানে উত্তেজনার মুহূর্তও দেখা গেছে।
সাবেক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের গোয়েন্দা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কারেন গিবসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়া সৌদি আরবের কাছে এমন বার্তা পৌঁছেছে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লেও সব সময় সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র পাশে নাও দাঁড়াতে পারে।
পুরনো বিরোধে নতুন উত্তেজনা
ট্রাম্পের সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল যে, অভিযানের জন্য তারা মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য একটি মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা থামিয়ে দেন ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিল রিয়াদ।
হুতিরা সৌদি আরবকে এমন একটি সংঘাতে ফিরিয়ে এনেছে, যা থেকে তারা বছরের পর বছর ধরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল। গত জুলাই মাসে সৌদি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণা করে গোষ্ঠীটি, যা চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে।
এদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এক হুতি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, তারা শুধু সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা করবে না।
এ বিষয়ে ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন যে, হুতিরা মার্কিন স্বার্থে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন