প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে কেবল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রইদ’। বাকিরা দর্শক ও সমালোচক—দুই পক্ষকেই হতাশ করেছে। ইন্ডাস্ট্রির কর্তাব্যক্তিদের মন্তব্যও এটাই। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘ভালো সিনেমার অভাবে একের পর এক সিঙ্গল স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, এ বছর সব হল মালিকই লোকসানে। গল্প আর নির্মাণ ভালো না হলে কোনো ছবি ব্যবসা করবে কিভাবে?’ শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ ও ‘রকস্টার’ প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারেনি। কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও সুস্মিতা চ্যাটার্জির ঢাকাই অভিষেকও দর্শক আকৃষ্ট করতে পারেনি বলে জানান উজ্জ্বল।
১৮ বছরের সিংহাসনেও কাঁপন
১৮ বছর ধরে ঢালিউডের এক নম্বর নায়কের আসনে রয়েছেন শাকিব খান। ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’ ও ‘বরবাদ’-এর সাফল্য তার অবস্থানকে আরো একচেটিয়া করেছে। এর সঙ্গে বেড়েছে প্রত্যাশার চাপ। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স : ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ শুরুতে সিঙ্গল স্ক্রিনসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে, কিছু শো হাউসফুলও ছিল। তবে সেই সাফল্য দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। নতুন লুক এবং টিজারের হাত ধরে ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’ নিয়েও প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু ছবিটি ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। পরপর দুই ছবির ব্যর্থতায় প্রযোজকরা এখন ‘শাকিব খান মানেই ব্যবসায়িক সফলতা’—এমন ধারণায় ভরসা রাখতে দ্বিধাগ্রস্ত।
আলোচনার চূড়ায়, সাফল্যের নাগাল ছাড়া
ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘রাক্ষস’ ও রায়হান রাফির ‘প্রেসার কুকার’। বিভিন্ন কারণে ছবিগুলো মুক্তির আগেই আলোচনায় ছিল। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘দম’-এ অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরি। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস থেকে নির্মিত হওয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রতি দর্শকের মনোযোগ ছিল আলাদা। শুধু সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাওয়া ছবিটিই এ বছরের সঠিক ব্যবসা করা ছবি, বলছে বক্স অফিস রিপোর্ট। ঈদুল আজহায় মুক্তি পায় আটটি ছবি—‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘বনলতা সেন’, ‘মালিক’, ‘মাসুদ রানা’, ‘তছনছ’, ‘অফিসার’ ও ‘পিনিক’। দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা এখন মাত্র দেড় শ। তাই এই ভিড়ে একমাত্র ‘রইদ’ ছাড়া কোনো ছবিই ভালো ব্যবসা করতে পারেনি।
কলকাতার নায়িকারা : আসা ঘটা করে, ফেরা নিঃশব্দে
২০২৩ সালে শাকিব খানের বিপরীতে ‘প্রিয়তমা’ দিয়ে সাফল্যের স্বাদ পান কলকাতার ইধিকা পাল। পরে ‘রাজকুমার’ ও ‘বরবাদ’-এও সফল হন তিনি। ঢালিউডে কলকাতার নায়িকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ইধিকার সাফল্যের পর তাঁদের আগমনের হার হঠাৎ বেড়ে যায়। ‘প্রিন্স’-এ ছিলেন কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। মুক্তির আগে কৌতূহল থাকলেও তাসনিয়া ফারিণের পাশে তাঁর চরিত্রটি ম্লান হয়ে পড়ে। সমালোচকদের মতে, চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের সীমাবদ্ধতায় দর্শক মনে উল্লেখযোগ্য ছাপ রাখতে পারেননি তিনি। কলকাতার পরিচিত মুখ সুস্মিতা চ্যাটার্জির অভিষেক ঘটে ‘রাক্ষস’ দিয়ে। আগাম আলোচনা থাকলেও ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক আকৃষ্ট করতে পারেনি। সুস্মিতার উপস্থিতিও প্রত্যাশিত সাড়া জাগাতে পারেনি।
বছর শেষের পর্দায় অনিশ্চয়তার ছায়া
রায়হান রাফির ‘আন্ধার’ অক্টোবরে মুক্তির কথা থাকলেও এখন তা পিছিয়ে আগামী বছরের ২৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা থাকা শাকিব খানের ‘সোলজার’-এর শুটিং এখনো শেষ করতে পারেননি পরিচালক সাকিব ফাহাদ। রাফির আরেক ছবি ‘সুড়ঙ্গ ২’-এর শুটিংও শুরু হয়নি। ফলে বছরের শেষ দিকে এসব ছবি আদৌ মুক্তি পাবে কি না, তা অনিশ্চিত। প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘নিয়মিত ছবি মুক্তি না পাওয়ায় ব্যবসা শুধু ঈদকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। তাই বছরের বাকি সময় হলগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে। সারা বছর দর্শকের জন্য সিনেমা না থাকলে হলে নিয়মিত যাওয়ার অভ্যাসও গড়ে ওঠে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন