প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্নো লেপার্ড (তুষার চিতা) বন্যপ্রাণীদের মধ্যে অন্যতম, যাদের দেখা পাওয়া সহজ নয়। বর্তমানে স্নো লেপার্ড দেখা একটি বিরল ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। লাদাখ ও হিমালয়ের উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে বাস করা এই প্রাণীটি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও পাথুরে পরিবেশে টিকে থাকার জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে তুলেছে। স্নো লেপার্ডের শরীরের হালকা ধূসর ও সাদা রঙের লোমে কালো ছোপ থাকে, যা তাদের আশপাশের বরফ ও পাথরের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে সহায়তা করে।
সাধারণত শীতকালে স্নো লেপার্ডের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে বন্য পরিবেশে তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে। তবে এবার বিরল এই প্রাণী দেখার স্থান হিসেবে ভারতের লাদাখ আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে। পর্যটকরা লাদাখে গিয়ে স্নো লেপার্ডকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে খোঁজার সুযোগ পাচ্ছেন।
ভ্রমণ সংস্থা বেইলি রবিনসনের প্রকাশিত ‘ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপেরিয়েন্স ইনডেক্স’-এ স্নো লেপার্ড দেখার জন্য লাদাখকে বিশ্বের চতুর্থ সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় লাদাখের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৮৫ দশমিক ৫।
‘ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপেরিয়েন্স ইনডেক্স’-এ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার ৩০টি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতার তুলনা করা হয়েছে। তালিকা তৈরির সময় ছয়টি বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হলো, প্রাণীটির বিরলতা, সেটি দেখতে যাওয়ার স্থান কতটা দুর্গম, প্রাণী সংরক্ষণে এর গুরুত্ব, অভিজ্ঞতাটি কতটা বিশেষ বা সীমিত সুযোগের, সেখানে পৌঁছানোর সহজতা এবং প্রাণীটির দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা।
‘কনডে নাস্ট ট্রাভেলার’-এর প্রতিবেদনে বেইলি রবিনসনের সেলস ডিরেক্টর সারাহ পার্কার বলেন, বিরল প্রাণী এবং দুর্গম এলাকার মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—এটি তাদের বিশেষভাবে নজরে এসেছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে অসাধারণ বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতার জন্য সাধারণত অনেক দূরে যেতে হয় এবং আরও গভীর দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করতে হয়। ফলে এমন কিছু দেখার সুযোগ মেলে, যা খুব কম পর্যটকই জীবনে দেখার সুযোগ পান।
তালিকায় প্রথম স্থান পেয়েছে রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় মাউন্টেন গোরিলা দেখার অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যান্টার্কটিকায় এম্পেরর পেঙ্গুইন দেখার অভিযান। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কাজাখস্তানে সাইগা অ্যান্টিলোপ দেখার ভ্রমণ। লাদাখে স্নো লেপার্ড দেখার অভিজ্ঞতা চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। আর ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে জাভান গণ্ডার খোঁজার অভিজ্ঞতা পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
তালিকায় ভারতীয় উপমহাদেশের আরও দুটি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে। নেপাল, ভুটান বা ভারতে রেড পান্ডা দেখার অভিজ্ঞতা ১৫তম স্থানে রয়েছে, যার স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫। অন্যদিকে, ভারত বা নেপালে একশৃঙ্গ গণ্ডার দেখার সাফারি ২১তম স্থানে রয়েছে, যার স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৭৪ দশমিক ৫।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন