প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের পাল্টাপাল্টি মঞ্চে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আবেগ আর উন্মাদনা সবসময়ই থাকে। কিন্তু ব্রাজিলের বিদায় সেই আবেগে এক বড় ধাক্কা দিয়েছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ার ফলে, এখন লাতিন আমেরিকার কোটি সমর্থকের প্রত্যাশা এসে রয়েছে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার ওপর।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় কার্লো আনচেলোত্তির দল। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হারান ব্রুনো গিমারেস। এরপর ম্যাচের শেষ ভাগে আর্লিং হালান্ডের দুটি গোলের ফলে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ে। যদিও যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন, তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল।
ব্রাজিলের বিদায়ের পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আজ আটলান্টায় কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে। শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর, একটি শক্তিশালী আফ্রিকান দল।
এদিকে, কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও শেষ ম্যাচে কেপ ভার্ডের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় দলের কিছু দুর্বলতা সামনে এনেছে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো, রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
এ জন্য কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস কিংবা জিওভান্নি লো সেলসোকে সুযোগ দিতে পারেন। পাশাপাশি হুলিয়ান আলভারেজকে আরও স্বাধীনভাবে খেলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে আক্রমণের পুরো চাপ লিওনেল মেসির ওপর না পড়ে।
অন্যদিকে, মিসরের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ষোলোতে পৌঁছানো তাদের টিম মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশকে কেন্দ্র করে ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ তৈরি করেছে। তাদের শক্তিশালী রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ হচ্ছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা সের্হিয়ো আগুয়েরোও মেসিদের সতর্ক থাকতে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, কেপ ভার্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ক্লান্তি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। মিসরের মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেই ক্লান্তি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে।
ম্যাচের আগে মেসিও স্বীকার করেছেন যে, টানা নকআউট লড়াইয়ে ক্লান্তি তার দলে জমা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, চাপের ম্যাচ জিতে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
ব্রাজিলের বিদায়ের পর এখন পুরো লাতিন আমেরিকার নজর আর্জেন্টিনার দিকে। সেই বাড়তি প্রত্যাশার চাপ সামলে মেসিরা কি শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করতে পারবেন, সেটিই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন