প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে। একইসাথে, এই দুই শিক্ষার্থীকে আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাসে অবস্থান এবং প্রবেশ করতে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে ছাত্রদল তাদেরকে বহিষ্কার করেছিল।
গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত দশটায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটির জন্য অভিযুক্ত দুজনকে তদন্ত এবং শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার করেছে এবং আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তারা আগামী দুই বছর পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হয়ে আবাসিক হলের শিক্ষার্থী হতে পারবেন না।’
এছাড়াও, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং তার চিকিৎসার সকল ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করা কারণে মারধরের ঘটনা ঘটতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে একজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে রবিবার (১৯ জুলাই) সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতির পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেন।
গত শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মারধরের এই ঘটনা ঘটে। আহত খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার অভিযোগ করেছেন, শাহপরান হলের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার এবং পচা মাছ পরিবেশনার অভিযোগ তুলে তিনি হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট করেছিলেন।
পরে তাকে পোস্টটি সম্পর্কে কথা বলতে ডাকা হয়েছিল। একই রাতে আবারো খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করার পর শনিবার রাতে প্রধান ফটকের সামনে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান তার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তার উপর আক্রমণ করা হয়, ফলে তার বুকে লাথি ও মাথায় আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
অভিযুক্ত তারেক রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হলের খাবার নিয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে খাইরুলের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হাসিবুর রহমানও আহত হয়েছেন এবং তার চশমা ও মোবাইল ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন