প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহ স্যাটেলাইট স্টেশনের তত্ত্বাবধানে সদর উপজেলার চকনজুর গ্রামকে ইতোমধ্যে ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি গ্রামে কৃষকদের মধ্যে সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমেছে এবং আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে প্রযুক্তি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ধান চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ধান গবেষণা প্রকল্পের এমন সাফল্যের খবরে সরেজমিনে সদর উপজেলার চকনজুর প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। পরিদর্শনকালে প্রিন্স প্রযুক্তি গ্রামের কৃষিজমিতে রোপণ করা বিভিন্ন জাতের ধানের উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তিনি ধানের ফলন, জাতভিত্তিক বৈশিষ্ট্য এবং কৃষকদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ময়মনসিংহ স্যাটেলাইট স্টেশনের প্রযুক্তি গ্রামের সার্বিক কার্যক্রম অবহিতকরণ, কৃষক ও কৃষাণিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি। পরে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ কর্মসূচির আওতায় গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ এবং কৃষকদের মাঝে বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। এ সময় সৈয়দ প্রিন্স ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রযুক্তি গ্রামের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রযুক্তি গ্রাম অতি অল্প সময়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অচিরেই দেশের ৯০ হাজার গ্রামে প্রযুক্তি গ্রাম ছড়িয়ে পড়বে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, ফলন বাড়ানো এবং কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। এছাড়া প্রযুক্তি গ্রামের উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি উন্নত জাত, প্রযুক্তি ও কৃষি উপকরণের সুবিধা পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে প্রিন্স মন্তব্য করেন, এর সুফল আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এ সময় কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ এবং খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, তারেক রহমান কৃষি ও কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন হবে না, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থ সামাজিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্যাটেলাইট স্টেশন ময়মনসিংহের উপকেন্দ্রের পরিচালক ও প্রধান ড. আফছানা আনছারীর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কৃষক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের শেষে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ এবং কৃষকদের মাঝে বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে নিম গাছের চারা রোপণও করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন