প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর একাধারে পপ-ধারার সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি ফেসবুকে সবসময় সক্রিয় থাকেন। তিনি তার ক্যারিয়ার এবং মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শেয়ার করেন।
আসিফ আকবর কুমিল্লার সন্তান। সেখানেই তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা হয়েছে। বুধবার রাতে তিনি হঠাৎ গ্রামের বাড়ির কয়েকটি ছবি পোস্ট করে, ফেসবুকে বাড়িটির নির্মাণের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কিভাবে তার বাবা-মায়ের অক্লান্ত শ্রম এবং চেষ্টা এটা তাদের প্রিয় আবাসে রূপান্তরিত করে।
আসিফ লিখেছেন, ‘১৯৬০ সালে আব্বা-আম্মার বিয়ের পরপরই আমার দাদা মরহুম আবদুল হামিদ উদ্যোগ নিয়ে কুমিল্লায় বাসার জায়গা কেনার এবং বিল্ডিং তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন। আব্বা ছিলেন একজন জাঁদরেল আইনজীবী, পেশার প্রতি ছিলেন সিরিয়াস। তিনি অসহায় গরীব ক্লায়েন্টদের পক্ষে সবসময় কাজ করতে পছন্দ করতেন এবং তাদেরকে পরিবারের সদস্য করে নিতে পছন্দ করতেন। এর ফলে তিনি নিজে কখনোই স্বচ্ছল হয়ে উঠতে পারেননি। আমাদের সাত-ভাইবোনকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করতে গিয়ে আব্বা কঠিন টানাপোড়েনে থাকতেন। আম্মা ছিলেন ঢাকা এলিফ্যান্ট রোডের শিক্ষিত অভিজাত পরিবারের দূহিতা এবং সাধারণ কৃষক পরিবারে বউ হয়ে গেছেন। তিনি সব দিক মেনটেইন করার চেষ্টা করলেও বাজেট ঘাটতি সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত। পিওর মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমরা শেষ পর্যন্ত সমাজে বাবা-মায়ের প্রত্যাশার প্রতিফলন কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ্।’
আসিফ ‘আকবর ভিলা’ নিয়ে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আরও লেখেন, ‘আব্বা তিলে তিলে কষ্ট করে গড়ে তুলেছেন এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি। সেখানে উনার মেধা, শ্রম, ত্যাগ এবং আম্মার সহনশীলতা ও দূরদর্শিতার ভিত্তিতে আমাদের আজকের অবস্থান তৈরি হয়েছে। আমরা এই বাসায় বেড়ে উঠেছি, আমাদের সব ভাই-বোনের বিয়েও হয়েছে এখানে। মরহুম আব্বা-আম্মার অনন্ত যাত্রাও এই বিল্ডিং থেকেই ঘটেছে। আমার দাদার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আশা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই আকবর ভিলা। এই বিল্ডিংয়ের মধ্যেই জমা আছে আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের আরব্য রজনীর গল্প।’
সবশেষে আসিফ বাড়িটি ভেঙে ফেলার আভাস দিয়েছেন। আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘৬৬ বছর বয়সী এ বাসাটা আজ ক্লান্ত, তাকেও দাফন করতে হবে। এক অসীম শূন্যতা বুকে চেপে ধরে পাঁচ প্রজন্মের এই ইতিহাসকে মিশিয়ে দিতে হবে মাটির সাথে; নতুন স্থাপনা পরিণতি পাবে। একদিন আমাদের সব গল্পও মিলিয়ে যাবে অনন্ত অসীমে, এই প্রাঙ্গন মুখরিত থাকবে না, তবুও চলতে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের পথচলা।’
আসিফের ওই পোস্টে কেউ কেউ বাড়িটি অক্ষত রাখার আবদার করেছেন। কিন্তু আসিফ জানান, পুরনো বাড়িটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে দরকারি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন