প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ পুলিশ বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনের কাজে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ প্রথমবারের মতো সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে 'ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ' শীর্ষক সমন্বয় সভার আয়োজন করে।
সভাটির সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের পুলিশ কার্যক্রমের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধারণা অনেক বেশি বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠছে। সহিংস উগ্রবাদ ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ আজ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি এই পরিস্থিতির সাথে যুক্ত হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অপরাধ, ডিপফেক, ভুলতথ্য এবং অপতথ্য আজ আর কোন একক দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
আধুনিক পুলিশিংয়ের বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে সংগঠিত অপরাধের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সাথে জড়িত। অপরাধ তদন্তের মধ্যে একাধিক বিচার ব্যবস্থা, বিদেশী নাগরিক, সীমান্তপারের লেনদেন এবং জটিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকে। তাই এসব অপরাধ মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী কূটনীতিক অংশীদারিত্ব অপরিহার্য হয়ে উঠেছে; মূল প্রবন্ধে এই বিষয়টি উল্লিখিত হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে একটি প্রশস্ত কাঠামো গড়ে তুলেছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স শাখা, এনসিবি ও ইউএন অপারেশন শাখা, ডিএমপি, এসবি, সিআইডি, পিবিআই এবং এটিইউয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্তে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদানের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে অসাধারণ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুঃ নজরুল ইসলাম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অতিথিদের নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সাথে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের বিদেশে দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সাইবার ক্রাইম, ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলার কাজ করছে পুলিশ।
আইজিপির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কেবল অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অংশগ্রহণ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করে। বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশিং নির্ভর করছে ফলপ্রসূ সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ওপর। তিনি সকল দূতাবাস এবং বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার জন্য এ আয়োজনকে উল্লেখ করেন। এটি কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সমন্বয় এবং উন্নত অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করবে।
তিনি কার্যকরভাবে তথ্য বিনিময়, সুসমন্বয় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় মূল প্রবন্ধের ওপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি মোঃ কামরুল আহসান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকগণ বাংলাদেশ পুলিশের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বাংলাদেশ পুলিশের সাথে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় মানি লন্ডারিং, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সাইবার ক্রাইম, মানব পাচার ইত্যাদি অপরাধ মোকাবেলা এবং তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন দেশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে বলে সুপারিশ করা হয়।
সবশেষে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন