প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমন্বিত টোলিং ব্যবস্থা গড়ে তুললে টোল আদায়ের কার্যক্রম আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের স্মার্ট সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে একটি সমন্বিত টোলিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আজ সেতু ভবনে অনুষ্ঠিত স্মার্ট রোড ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কের জন্য সমন্বিত টোলিং কৌশল প্রণয়ন বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে দেশের সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলসমূহে বিদ্যমান টোল আদায় ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি), আন্তঃসংযোগযোগ্য টোলিং ব্যবস্থা, ক্যাশলেস লেনদেন, স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় এবং প্রযুক্তিনির্ভর টোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক এডিবির প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি সরকারের নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান টোলিং ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন সংস্থার ব্যবহৃত প্রযুক্তি, টোল আদায়ের প্রক্রিয়া, তথ্যের আন্তঃসংযোগ এবং ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত টোলিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ‘স্মার্ট সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্কের জন্য সমন্বিত টোলিং কৌশল প্রণয়ন’ শীর্ষক কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশে একটি টেকসই সড়ক টোলিং মডেল উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগের আওতায় দেশের বিদ্যমান টোলিং ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত টোলিং কৌশল প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলে টোল আদায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা গেলে সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য টোল পরিশোধ আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। পাশাপাশি টোল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতুতে ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নন-স্টপ ও ক্যাশলেস ইটিসি সেবা চালু রয়েছে। আরএফআইডি-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ ব্যবস্থায় যানবাহনকে টোল প্লাজায় না থামিয়েই টোল পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি টোল আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন সড়ক ও সেতুর ইটিসি ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হলে একটি সমন্বিত ডিজিটাল টোলিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
চলতি বছরের জুনে সেতু বিভাগে অনুষ্ঠিত এক স্টেকহোল্ডার সভায় দেশের সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলের বিভিন্ন ইটিসি ব্যবস্থাকে একটি একক ও আন্তঃসংযোগযোগ্য নেটওয়ার্কের আওতায় আনার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি সমন্বিত টোলিং প্ল্যাটফর্ম চালু হলে বিভিন্ন সড়ক ও সেতু ব্যবহারের ক্ষেত্রে টোল পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে টোল আদায়ের তথ্য সংরক্ষণ, লেনদেন ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব হিসাবের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এডিবির ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশের বিদ্যমান টোলিং ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পর্যালোচনা করে সমন্বিত টোলিং কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুপারিশ প্রদান করবে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টোল আদায় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ভিত্তি তৈরি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন