প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিন দিন উদ্বেগজনক হারে কমছে দিনাজপুরের হিলি বন্দরের আমদানি বাণিজ্য। কয়েক মাস আগে এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ২০ থেকে ২৫ ট্রাকে। এর ফলে বন্দরের দৈনন্দিন আয় কমে গেছে এবং বন্দরের কয়েকশ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আদায়ের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরে হিলি বন্দরে রাজস্ব ঘটতির পরিমাণ সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা।
হিলি স্থলবন্দর উত্তরাঞ্চলের সব চেয়ে বড় বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একসময় এখানে হাজারো মানুষের কর্মব্যস্ততা ছিল। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের পুরো ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ঠাসা থাকত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত-শত ব্যবসায়ী হিলি বন্দরে পণ্য কিনতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে সে বন্দরে যেন সুনসান নীরবতা। ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল নেই আর, আমদানিকারকদের আনাগোনা কমে গেছে। ফাঁকা পড়েছে ইয়ার্ডটি এবং আমদানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। কাজ অভাবে বন্দরের শত-শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং তাদের দিন কাটছে অলস সময়ে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মতিউর রহমান লাবু জানিয়েছেন, "ডলারের উচ্চমূল্য ও ভারতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য আমদানি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছে না।" এমন পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই আমদানি বন্ধ রেখেছেন। এ ছাড়া, পণ্য খালাসে কাস্টমসের হয়রানিও ব্যবসায়ীদের মতে আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সন্তোষ সরেণ জানিয়েছেন, "এলসির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ার কারণে বন্দরে এই মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।" রাজস্ব আদায় কমে গেছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশে আদায় হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছর শেষে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন