প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের মধুখালীতে এক শিল্পপতির বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে মো. রহমত আলী (৪৩) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃতদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। সেখানে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়ে যাওয়া হয়।
মারা যাওয়া রহমত আলী নাসিরনগর উপজেলার খাগালিয়া গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান আলীর ছেলে। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নরসিংদী সদর উপজেলার একটি শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম কাকন বেগম। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে, যারা ষষ্ঠ ও প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, রহমত আলী মধুখালী উপজেলার শিল্পপতি লোকমান হোসেনের বাড়িতে পরিচিত কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গত রবিবার ঢাকা থেকে বেড়াতে যান। দিনভর ঘোরাঘুরি করার পর রাতে খাবারের পর তাঁরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিশ্রামের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রহমত। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যুর ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
রহমত আলীর বড় ভাই মরম মিয়া জানান, তিনি নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানের নিমন্ত্রণে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নাসিরনগর সরকারি কলেজের প্রভাষক মাইনউদ্দিন শান্ত, সাংবাদিক নেহারেন্দু চক্রবর্তী এবং কলিকুন্ডা গ্রামের হোসাইন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘কীভাবে কী হয়েছে জানি না।’ রহমত আলীদের সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক নেহারেন্দু চক্রবর্তী। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ফরিদপুরে পান্না গ্রুপের মালিক লোকমান হোসেনের ফ্যাক্টরি ও বাংলোবাড়িতে সাজ্জাদ মোর্শেদের নৈমন্ত্রণে তাঁরা গিয়েছিলেন। রহমতও সেখানে গিয়েছিলেন।
নেহারেন্দু বলেন, ‘রাতে আমরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় গানের আয়োজনে রহমত অনেক নাচানাচি করেছিল। এর পর উপরে থেকে নেমে দেখি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
পান্না গ্রুপের মালিক লোকমান হোসেন দাবি করেন, মোট আটজন গতকাল বিকেলে তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তার মধ্যে সোহান নামের একজন ব্যবসায়ীর পরিচিত। বাকি সাতজন সোহানের বন্ধু। পরিচয়ের সূত্রে সোহান তাদের নিয়ে আলতু খান জুটমিলসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে এসেছিলেন। রাতের কোনো এক সময়ে রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রেতা জানান, সবার সঙ্গে রহমত মদ পান করেছিলেন। রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তার বুকে ব্যথা শুরু হয়। তখন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উপজেলা কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক জ্যোতি প্রকাশ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই রহমত আলী নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। তিনি কিছু খেয়ে অসুস্থ ছিলেন কি না, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া জানা সম্ভব নয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রহমত আলী অসুস্থ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান।
ঘটনা সম্পর্কে জানার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রহমত আলীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায় বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুরতহাল করার সময় মরদেহের মুখ থেকে কোনো গন্ধ পাওয়া যায়নি। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন