প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী যে গণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় এবারের ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন সুস্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করতে এবং মানুষের পাশে থেকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য প্রেরণা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন উল্লেখ করে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার দেখিয়েছে যে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে সংকটের সময়েও স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও আস্থা ফেরানো সম্ভব। টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ও জবাবদিহিহীনতার অচলাবস্থা মুহূর্তেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এবারের ঈদুল আজহায় মানুষ একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছে, যা হলো রাষ্ট্রের আন্তরিকতা ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক সক্রিয়তা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গণমুখী বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা, শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরীবহন শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, জননিরাপত্তা, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা। এসব পদক্ষেপের সমন্বিত বাস্তবায়ন ঈদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরও জনসম্পৃক্ত করতে সহায়তা করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাস শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ জনগণের আস্থা একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আমরা চাই জনগণই হোক আমাদের কাজের বিচারক, আর তাদের আস্থা ও সমর্থন আমাদের পথচলার শক্তি হোক।
মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি গণমুখী পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো হলো- ১) দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা: নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সাথে সমন্বয় করে সরকারী ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। ৬) পোশাক খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সব ব্যাংক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলা হয়েছে। ৭) দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় দুর্গমপথে পশুর অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে দেশীয় পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ৮) দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা: ঈদের দিন বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৯) গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা: ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি ছিল। ১০) চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান: পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। ১১) লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ: বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ১২) সামাজিক সংবেদনশীলতা: কোরবানির সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন এবং তার তদারকিতে ঈদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য তুলে ধরেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন