প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে আজ বৈঠকে বসছে পে-স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটি।
বুধবার (২৪ জুন) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি ও আইনি বিষয়ের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পে-স্কেল কমিটি আজ এই বৈঠক আয়োজন করেছে।
বৈঠকে বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং কারিগরি ও আইনি জটিলতা অপসারণসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, সচিব কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই হয়েছে, তবে এখন আলোচনা হবে এটি দুই ধাপে করতে পারা যায় কিনা। অফিসার-কর্মচারীদের দাবির আলোকে এমন আলোচনা উঠেছে। দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে আগামী ১ জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধি পাবে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র বেসিকের বিষয়টিই নয়; সচিব কমিটির সভায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু কার্যকর করা হবে অর্থাৎ পে-কমিশন বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছিল তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি করা হবে সেটিও আলোচনা করার বিষয়।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, বুধবার সচিব কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গঠিত ঠিকানা সচিব কমিটির এ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য নিরসন। একইসাথে, আইনি ভেটিংয়ের মাধ্যমে পূর্বের বিধিমালা সংশোধন এবং পে-স্কেলের জটিল হিসাব-নিকাশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইবাস++ মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও আশা করা যাচ্ছে।’
এর আগে ১৮ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো সম্পর্কে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এর নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির সকল সদস্যকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন