প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সিরিকোট দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ হুজুর কেবলার বাংলাদেশ সফর ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর্মসূচিকে ঘিরে সুন্নিয়ত অঙ্গনে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন হবিগঞ্জের জনপ্রিয় শায়ের মিজান কাদরি।
আল্লামা সাবের শাহের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই এসব প্রশ্ন তুলেছেন জানিয়ে মিজান কাদরি বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনো বিরোধিতার জন্য নয়; বরং সুন্নিয়তের বৃহত্তর স্বার্থে আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “হুজুর কেবলা কি শুধু প্রতিবছরের ঈদে মিলাদুন্নবীর সময়ই বাংলাদেশে আসবেন? বছরের মাঝামাঝি সময়ে বা বছরে অন্তত এক-দুইবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করা কি সম্ভব নয়?”
মিজান কাদরির মতে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিভাগেও নিয়মিত বড় ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে দেশের লাখো মুরিদ, আশেক ও নবীপ্রেমিক মানুষ সরাসরি হুজুর কেবলার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, “সবাই চট্টগ্রামে যেতে পারে না। অনেক বৃদ্ধ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন, যাদের অন্তরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও শারীরিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম যাওয়া সম্ভব হয় না।”
ঢাকা জুলুস নিয়েও প্রশ্ন
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জুলুসে বিভিন্ন দরবার, খানকা ও সুন্নি প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় কি না—এ প্রশ্নও তুলেছেন মিজান কাদরি।
তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে বহু ঐতিহাসিক দরবার ও মাজার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়ে বৃহত্তর সুন্নি ঐক্যের ভিত্তিতে জুলুসে সম্পৃক্ত করা হলে আয়োজন আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তার প্রশ্ন, “ঢাকার আশপাশের অন্তত শতাধিক দরবার, খানকা ও সুন্নি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করা গেলে ঢাকার জুলুসের ব্যাপ্তি ও শক্তি কতটা বৃদ্ধি পেত—সেটা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?”
‘শুধু একটি অঞ্চলকে শক্তিশালী করলেই কি জাতীয় সুন্নিয়ত শক্তিশালী হবে?’
মিজান কাদরি বলেন, চট্টগ্রাম সুন্নিয়তের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হলেও বাংলাদেশ শুধু চট্টগ্রাম নয়। দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় বিপুলসংখ্যক সুন্নি জনশক্তি রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সুন্নিয়তকে কি বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার সময় এখনো আসেনি?”
এ সময় তিনি দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে আধুনিক ও শক্তিশালী জামিয়া প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, একটি বিভাগে একটি শক্তিশালী জামিয়া গড়ে উঠলে সেখান থেকে নতুন প্রজন্মের আলেম, গবেষক, খতিব, বক্তা ও সুন্নি নেতৃত্ব তৈরি হতে পারে।
‘শুধু জনসমাগম নয়, প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভবিষ্যৎ’
মিজান কাদরি বলেন, “আমরা কি শুধু প্রতিবছর বড় বড় সমাবেশ করে আবেগ প্রকাশ করব, নাকি সেই আবেগকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, সংগঠন ও জাতীয় ঐক্যের শক্তিতে রূপান্তর করব?”
তিনি বলেন, জুলুস হবে, মিলাদ হবে এবং নবীপ্রেমের প্রকাশ থাকবে—তবে এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন।
তার ভাষায়, “শুধু জনসমাগম ইতিহাস তৈরি করে না—প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভবিষ্যৎ। শিক্ষা তৈরি করে নেতৃত্ব। আর ঐক্য তৈরি করে শক্তি।”
চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সফর নিয়ে আলোচনা
প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আল্লামা সাবের শাহের বাংলাদেশ সফর এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুসে তাঁর নেতৃত্ব দেওয়া সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। তবে তাঁর সফর দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারিত করা যায় কি না—এ নিয়ে সুন্নিয়ত অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।
মিজান কাদরির প্রশ্ন, “সাবের শাহ কি শুধু চট্টগ্রামের জন্য, নাকি তাঁর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব ও দাওয়াতের পরিধি পুরো বাংলাদেশের সুন্নি মুসলমানদের জন্যও উন্মুক্ত হওয়া উচিত?”
তবে আল্লামা সাবের শাহকে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় না কিংবা তাঁকে অন্য কোথাও প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয় না—এমন কোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
সবশেষে মিজান কাদরি বলেন, “প্রশ্নগুলো বিরোধিতার নয়—সুন্নিয়তের আগামী দিনের জন্য ভাবনার। উত্তর ও বাস্তব উদ্যোগ দেখতে চাই।”
তার বক্তব্যকে ঘিরে সুন্নিয়ত অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের কী উত্তর আসে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুন্নিয়তের কার্যক্রম বিস্তারে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে আছেন অনেক সুন্নি মুসলমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন