প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারের উপকূলে জুন মাসের শেষ বলে এবং জুলাই মাসের শুরুতে ঘটে যাওয়া পৃথক দুটি বড় নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও অধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ। উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় প্রতিবছর অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে যাত্রা করেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের যৌথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি মিয়ানমারের উপকূলে ৫০০ জনেরও বেশি যাত্রী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটতে পারে—এমন একটি প্রতিবেদনে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে, নৌকা দুটি জুন মাসের শেষ দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই নৌকাগুলোতে মূলত দেশের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনসংখ্যার সদস্যরা ছিলেন।
এদের মধ্যে কিছু সদস্য বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে কক্সবাজারে ১০ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা শরণার্থী অত্যন্ত মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন।
প্রতি বছর উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বহু রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে যাত্রা করেন। এসব যাত্রায় তারা প্রায়ই মানবপাচারকারী চক্র দ্বারা পরিচালিত জরাজীর্ণ নৌকা ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় ২৫০ জন যাত্রী বহনকারী একটি নৌকার সঙ্গে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াদি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ঘটনাটি এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার সময় ৬ হাজার ৫০০ জনেরও অধিক রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই দুটি সংস্থা বলেছে, সর্বশেষ এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রভাবকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
একইসাথে, বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে সংস্থাগুলো। তবে তারা স্পষ্টভাবে বলেছে, শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটনার মূল কারণগুলোকে দূর করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন