প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ৩ দিনের মধ্যে ৬ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেইসাথে, এই সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
সোমবার (২২ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এমন একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী এবং রংপুর, সিলেট ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এক্ষেত্রে এ সময় ভারতীয় রাজ্যগুলোর মেঘালয়, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত দেখা গেছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে, এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশের ওপরও এই পূর্বাভাস রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী ৫ দিনেও এসব নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এটি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। এদিকে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় এই সময় এই নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এ সময়ে তিস্তা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, এবং আগামী ২ দিন পর এসব নদীর পানি বাড়তে পারে, এবং তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই ও কংস নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে এসব নদীর পানি বাড়তে পেতে পারে, এবং নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
এছাড়া নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, মনু ও যাদুকাটা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। তবে খলাই ও খোয়াই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিনও বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি এই সময় গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে।
তবে এসব নদীর পানি আগামী ৩ দিন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন