প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর উত্থানের পেছনে একটি ভিন্ন কাহিনী বিদ্যমান। দেশের বিশাল ফসফারেট সম্পদের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই অর্থের মাধ্যমে জাতীয় দলের উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
২০২৪ সালে গঠিত জাতীয় ফুটবল প্রশিক্ষণ তহবিলের মাধ্যমে মরক্কোর ফুটবলে বড় আকারের বিনিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। ফুটবল ফেডারেশন, বেসরকারি খাত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সার প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো মরক্কোকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।
মরক্কোর ষষ্ঠ মোহাম্মদ বহুমুখী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি হিশাম এল হাবতি জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। রাজকীয় নির্দেশনার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কাজে সমর্থন দিচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান অনুশীলন মাঠ নির্মাণের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার সাথে তাদের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রও রয়েছে।
তবে মরক্কোর ফুটবল উন্নয়নের এই যাত্রা নতুন নয়। ২০০৯ সালে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ সরকারকে সারা দেশে খেলার মাঠ, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আধুনিক মাঠ এবং দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরিতে বিনিয়োগের নির্দেশনা দেন। পরে ২০২৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত সার প্রতিষ্ঠানটি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্যক্রমে গতি দেয়।
এই তহবিলের অর্থের মাধ্যমে নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা স্থাপন করা হয়েছে এবং উন্নত প্রশিক্ষণ পদ্ধতির কার্যক্রমও চালু হয়েছে।
ফলশ্রুতিতে মাঠে ফলাফলের দেখা মিলছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মরক্কো ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে শেষ চারে পৌঁছায়। সেই আসরে তারা স্পেন, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মত শক্তিশালী দলগুলিকে পরাজিত করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে। চলতি বছর আফ্রিকা মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বও অর্জন করেছে তারা।
ফসফেট কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ, যা ছাড়া খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার তৈরি করা অসম্ভব। মরক্কোতে এই মূল্যবান সম্পদের অন্যতম বৃহৎ ভাণ্ডার বিদ্যমান, ফলে বিশ্ববাজারে ফসফেটের চাহিদা থেকে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয় করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, রাশিয়া ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার শিকার হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের ভবিষ্যতের উপর প্রশ্ন উঠেছে। এই কারণে ফসফেটের বিশ্ববাজারে মরক্কোর গুরুত্ব উচ্চতর হয়েছে।
হিশাম এল হাবতির মতামত হলো, ফুটবলে এই বিনিয়োগ দেশের মানুষের মধ্যে নবীন আশা ও আনন্দ সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের সময় দেশের প্রতিটি প্রান্তে আনন্দের স্রোত বয়ে গিয়েছিল, এবারও তিনি সেই উচ্ছ্বাস জনগণের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন।
সূত্র : রয়র্টাস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন