প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে থাকবে সে বিষয়ে বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার, জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্যে সবার প্রতি প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান যে, প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। এসব মামলার প্রায় বড় অংশটাই মূলত সম্পত্তির বণ্টন এবং হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়। মন্ত্রী বলেন, আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয় এবং হিন্দু আইনে উইলও হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হতে দেখা যায়। বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতে থাকা সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। ফলে তারাও নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তিতে সন্তানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি ছেলে-মেয়ে তাদের দেখেন না, তাহলে বাবা-মায়ের কিছু করার থাকে না; তারা অসহায় হয়ে পড়েন। আইনমন্ত্রী এসময় আরও জানান, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটি ধারা রয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণভাবে হেবার বাইরে গিয়েও কেউ গিফট দিতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সরকার সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। আইনমন্ত্রী বলেন, বাবা-মায়ের জীবনদশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউ ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না। তবে বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ছাড়ের বিধান থাকতে পারে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি আসে যে বাবার চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং ওই সম্পত্তি না বিক্রি করলে চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি না দেয়, সেক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকবে। জেলা জজের কাছে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে, এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা কাজ করতে চাই এবং জনগণের কল্যাণে পরিবর্তন করতে চাই। আমাদের যেখানে যেভাবে সম্ভব পরিবর্তন করতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে আইনমন্ত্রী জানান, বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা গুমের (এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করবে সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন