প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বটি দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের ফ্যাক্সের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই ঘোষণার সাথে সাথে বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তবর্তীকালীন ৮ম চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বড় ভাই কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্যরা হলেন- ১. শাশ্বত চাকমা, রাঙ্গামাটি সদর, ২. বিল্টু চাকমা, বাঘাইছড়ি, ৩. সুবিমল চাকমা, বরকল, ৪. অনিল বরণ চাকমা, জুরাছড়ি, ৫. উথোয়াইমং মার্মা, কাপ্তাই, ৬. পাইচিং মং মার্মা, কাউখালী, ৭. প্রেমা তালুকদার, রাজস্থলী, ৮. তিমথী খিয়াং, রাজস্থলী, ৯. সুপর্ণ দেব বর্মন, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি, ১০. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি, ১১. তোফাজ্জল হোসেন, লংগদু, ১২. মোহাম্মদ ফারুক, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৩. নন্দিতা দাশ, মাষ্টার কলোনী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৪. চন্দ্রা চাকমা, রাজদ্বীপ পাড়া, রাঙ্গামাটি পৌরসভা।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ১৯৮৯ এবং এই আইনের সব সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর প্রেরিত প্রজ্ঞাপন দ্বারা গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদারকে দায়িত্ব দেওয়ার খবরে পাহাড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে জেলা পরিষদের নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর তাঁর দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দীপন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০২৩ সালে ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন দীপন তালুকদার। তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারের সদিচ্ছায় নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যদিয়ে পরিষদের কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে-এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে নতুন চেয়ারম্যানের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দল-মত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমান সুযোগ এবং দুর্গম এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেলা পরিষদের নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব পরিষদ পরিচালনা করা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীপন তালুকদারের নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন