প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তিউনিসিয়ার অভিজাত উপকূলীয় এলাকা লা মারসায় এক ব্যক্তি খাবার চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে রেস্তোরাঁর বাইরেই ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। জানা যায়, ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি খিদের জ্বালায় রেস্তোরাঁর কাছে খাবার প্রার্থনা করেছিলেন। এই নির্মম ঘটনার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই তিউনিসিয়াজুড়ে মারাত্মক ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিটি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায় লা মারসার ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে কিছুটা খাবার চাইছিলেন। তবে রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে তাকে আর কোনো খাবার দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলে তিনি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে নীরবে সেখান থেকে চলে যান। পরে, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই, তিনি পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে একটি রেজরের ব্লেড কিনে আবার রেস্তোরাঁর সামনে ফিরে আসেন এবং পথচারীদের চোখের সামনেই নিজের শরীরে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করতে থাকেন।
খবর পেয়ে সিভিল প্রটেকশন বা জরুরি উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর তিউনিসিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা এই ঘটনাকে দেশটির চরম দারিদ্র্য, সামাজিক ভঙ্গুরতা এবং বেকারত্ব, ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পিষ্ট সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের এক ভয়াবহ রূপ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর ওই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে। তারপর তারা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনার দাবি, ওই ব্যক্তি একই দিনে এর আগেও রেস্তোরাঁয় এসেছিলেন এবং তাকে তখন বিনামূল্যে একবেলা খাবার দেওয়া হয়েছিল। এক বিবৃতিতে তারা আরও জানিয়েছে, সেদিন সন্ধ্যায় পুনরায় খাবার চাইলে কর্মীরা তা দিতে অস্বীকার করায় সামান্য বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। এরপর তিনি চলে যান এবং পরে ফিরে এসে রেস্তোরাঁর বাইরে নিজের ক্ষতি করেন।
অনলাইনে রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ খণ্ডাতে এবং নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে এই বিবৃতি দেওয়া হলেও তা জনরোষ প্রশমিত করতে পারেনি। পুরো ঘটনার কারণে তিউনিসিয়ার বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে এবং ঘটনার গভীর তদন্তের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন