প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তিন দশকের অপেক্ষার পরও মেলেনি মরদেহ, সেইসাথে মেলেনি ন্যায়বিচার। অবশেষে আদালতের এক ঘোষণায় সরকারি নথিতে ‘মৃত’ হলেন কাশ্মীরের এক নিখোঁজ ব্যক্তি। কিন্তু কোথাও নেই তার মরদেহের ঠিকানা। এই একটি মৃত্যু সনদ আবারো সামনে আনার চেষ্টা করছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের হাজারো গুম, অচিহ্নিত কবর এবং বিচারহীনতার দীর্ঘ ইতিহাসকে।
১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে, শ্রীনগরের কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল রশিদ ওয়ানিকে বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেয়া হয়। সেদিন রাতে তার পরিবারের সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
প্রায় ২৯ বছর পর আদালত জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর এক মেজরের হেফাজতেই তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করে রাখা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে এবার প্রথমবারের মতো ওয়ানির জন্য মৃত্যু সনদ ইস্যুর সম্ভাবনা তৈরি হলো। তবে আজও কেউ জানে না, কোথায় রয়েছে তার দেহাবশেষ।
এই রায়কে কাশ্মীরে জোরপূর্বক গুমের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের কেন্দ্রীয় বক্তব্য হলো, ১৯৮৯ সালের পর সহিংসতার সময় অন্তত আট হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। অনেক পরিবারের এখনও জানা নেই, তাদের স্বজন জীবিত নাকি মৃত। কাশ্মীরের এসব নারীদের ‘হাফ-উইডো’ বা অর্ধ-বিধবা বলা হয়, কারণ তারা স্বামীর মৃত্যুর নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়ায় শোকও সম্পূর্ণ করতে পারেন না।
গুমের অভিযোগের সাথে সাথে অচিহ্নিত গণকবরের বিষয়টিও বারবার উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি থাকে যে, নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন দুর্গম এলাকায় ২ হাজার ৭০০-এর বেশি অচিহ্নিত কবর রয়েছে।
২০১১ সালে কাশ্মীরের মানবাধিকার কমিশনেও বহু কবরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে জানায়, অধিকাংশ মরদেহের পরিচয় সরকারের কাছেও নেই। যদিও ডিএনএ পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেই মানবাধিকার কমিশনও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ভারত সরকার বরাবরই বলে এসেছে যে, এসব কবরের বেশিরভাগই সংঘর্ষে নিহত অজ্ঞাতবিদ্রোহীদের। অনেক নিখোঁজ ব্যক্তিকে তারা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার দাবি করেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রশ্নগুলো অনবরত একটাই, যদি তাদের স্বজন আর বেঁচে না থাকেন, অন্তত তাদের মরদেহ কোথায়?
প্রায় তিন দশক পর একটি মৃত্যু সনদ সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। এটি নতুন করে মনে করিয়ে দিলো যে, কাশ্মীরে অনেক পরিবারের কাছে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, তারা এখনও সত্য, ন্যায়বিচার এবং স্বজনের শেষ ঠিকানার জন্য অপেক্ষা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন