প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা সহ জাতীয় জনশক্তি উন্নয়নকে লক্ষ্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই কেন্দ্রগুলি চালু করা হবে।
ইউজিসি ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কার্যালয়ে এ বিষয়ক একটি সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা।
সভার আলোচনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে কমিশন জানিয়েছে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষার কোর্স চালু হবে তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত সুবিধার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত করা হবে।
কমিশন এ কথাও বলেছে, দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে এই কর্মসূচির আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র কার্যরত রয়েছে এবং এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে, যা সভায় জানানো হয়।
বিগত কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, পরিচালিত কোর্স, প্রশিক্ষক ও জনবল কাঠামো এবং অবকাঠামোগত সুবিধাসমূহ পর্যালোচনা করা এবং নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের দায়ভার কমিশনের ওপর রয়েছে।
সভায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রশিক্ষক দল গড়ে তুলার পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দেশের অভিজ্ঞ ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানগুলির সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কমিশনের।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্য সদস্যগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ, এবং ইউজিসি সচিবালয়ের সচিব মো. ফখরুল ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশে ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটির তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি তা চিহ্নিত করা হবে।
ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও মান নিশ্চিতকরণে ইউজিসি প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে, এই বিষয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, “কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো প্রণয়ন, আধুনিক ভাষা ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের দিকে সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সাথে এসব কেন্দ্র যাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্পন্ন ভাষা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি থাকবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন