প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই বিপ্লবে শহীদ আহনাফ শাকিব সারমদ-এর মা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে একটি আবেগঘন এবং সাহসী কথোপকথনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শহীদ আহনাফের মা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।
ভিডিওর সূচনায় শহীদ আহনাফের মা তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে পাঠান, "আমরা শুনেছি যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হবে।" তিনি সরাসরি জানতে চান, যারা এই বিপ্লবের বিরোধী ছিল এবং যাদের হাতে ছাত্র-জনতার রক্ত, বিএনপি কি তাদের সঙ্গে কোনো আপস করতে প্রস্তুত?
বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির ওপর চলে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "হাসিনার শাসনে আপনারা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন। আপনার মা বছরের পর বছর জেলে ছিলেন, আপনি দেশে ফিরে আসতে পারেননি।" আবেগে ভরা কণ্ঠে তিনি আরো যোগ করেন, "আমাদের সন্তান আহনাফ রক্ত দিয়েছে, তাই আপনি আজকে কথা বলছেন। আমি বিশ্বাস করি আপনি এ কথা মানেন এবং আপনার দলের অন্য সদস্যরাও মানেন।"
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ প্রায় ১,৪০০ জনকে হত্যা করেছে, তবে বেসরকারি সূত্রে এই সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও অনেক নিহতের পরিচয় অজানা রয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে এবং এখনও অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শহীদ আহনাফের মায়ের এই সতর্কবার্তা মূলত সেই মানুষের কণ্ঠস্বর, যারা মনে করেন যে শহীদ ও আহতদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই 'নতুন বাংলাদেশে' ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনর্বাসন মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
শহীদ আহনাফের মা বিএনপির উদ্দেশ্যে একটি পরিষ্কার বার্তা দেন যে, সাধারণ মানুষ এমন একটি দল চায় যারা শহীদদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করবে। তিনি তারেক রহমানকে বলেন যে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত না করার এবং প্রতিটি হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে স্পষ্ট আশ্বাস দিতে হবে যাতে আগামী নির্বাচনে তারা জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারে।
তার আবেগঘন বক্তব্যের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, এটি কেবল একজন মায়ের আর্তি নয়, বরং এই সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দাবিও। এখন দেখার বিষয়, বিএনপির নেতারা কিংবা আগামী নির্বাচনে আসা যারা তারা জনগণের এই আস্থা এবং শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় কতটা সহনশীল ভূমিকা পালন করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন