প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা, ডা. ফারহানা শারমিন (২৭), মাহবুব হাসান রায়হান (৩৩) নামে আরেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান আসামি, চিকিৎসক মাহবুব হাসান রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। মামলার আরও আসামিরা হলেন- রায়হানের সহযোগী রিফাত (৩৩), নাফিজ (২৫), আজমল (৩২), রায়হান (২৫) এবং অজ্ঞাত ৩ জন।
শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম ঘটনার মামলা ও গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক ফারহানা শারমিন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দুর্গাপুর (তেলজুড়ী) গ্রামের মহসিন শিকদারের কন্যা। অভিযুক্ত মাহবুব হাসান রায়হান শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বাউনী গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মাঝে মাঝে এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে আসতেন।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক ফারহানা শারমিন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় চিকিৎসক মাহবুব হাসান রায়হান মাঝে মাঝে অন কলে আসতেন এবং এভাবে তার সঙ্গে পরিচয় ঘটে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে রায়হান প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং পরে বিয়ের। কিন্তু ফারহানা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। অতীতে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, রায়হান তার সঙ্গে চা খাওয়ার জন্য আবেদন করেন। সরল বিশ্বাসে প্রস্তাবে রাজি হয়ে তিনি ২৬ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্মস্থল থেকে বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর রেলস্টেশনের কাছে ভাইরাল চা স্টলে যান। সেখানে গিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অটোরিকশা দিয়ে শ্রীপুর যাওয়ার পথে, একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার তার সামনে দাঁড়ায়।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসামি রিফাত, নাফিজ, আজমল এবং রায়হানসহ অজ্ঞাত সহযোগীরা ফারহানা শারমিনকে মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। তারা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের আংটি কেড়ে নেয়। পরে তাকে জিম্মি করে শ্রীপুরের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ঘোরানো হয়। পরে, মুক্তিপণ দাবি করে এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের ভয় দেখানো হয়। সেখান থেকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারা বলেন, যদি রাজি না হন, তাহলে জীবনহানির হুমকি দেওয়া হবে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গভীর রাতে তাকে এক টিনশেড ঘরে নিয়ে একজন কাজীকে ডাকেন এবং ভুক্তভোগীর মুঠোফোন থেকে জোরপূর্বক জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও সংগ্রহ করে বিয়ের জন্য তাকে বাধ্য করেন। ওই সময় তারা কাবিননামা ও তিনটি খালি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ নেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
এখন প্রধান আসামি মাহবুব হাসান রায়হান পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সুরুজ্জামান বলেন, শুক্রবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করার পর আসামি মাহবুব হাসান রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যে তার নিজ বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত তিনটি খালি স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।
এসব বিষয়ে, চিকিৎসক ফারহানা শারমিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোন যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে, হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে বলেন, "সম্মানিত মিডিয়ার ভাইগণ, আমার সাথে অন্যায় হয়েছে। আমি মামলায় অভিযোগ করেছি এবং আমি মানসিকভাবে কঠিন অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বিষয়টা মামলাধীন বিধায় আমি আপাতত কথা বলতে চাচ্ছি না। ধন্যবাদ আপনাদের প্রতি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন