প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আইআরজিসির সঙ্গে বিরোধে পদত্যাগ করেছেন, এমন একটি খবর ছড়ালেও ইরান সরকার তাতে অস্বীকার করেছে।
একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং বলেছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইআরজিসির প্রভাব এত বেশি যে, তিনি সরকারের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছেন না।
তবে সরকারি সূত্র এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে যে, এই খবর সঠিক নয়। তারা জানান, প্রেসিডেন্ট এখনো তার দায়িত্বে আছেন এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাবের প্রতিবাদে তিনি এই পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে যে, পেজেশকিয়ান তার পদত্যাগপত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে জমা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে নির্বাচিত সরকারকে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এছাড়া, আইআরজিসির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই ক্ষমতার শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলোর ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
এদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি সরকারের একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেননি এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিভাগের উপপ্রধান সৈয়দ মেহেদী তাবাতাবাইও এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে পদত্যাগের খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিদেশভিত্তিক এই বিতর্কিত সংবাদমাধ্যমের গুজব ছড়ানো এক ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণার অংশ। তারা বাস্তবতার পরিবর্তে নিজেদের কল্পনাকে খবর হিসেবে প্রকাশ করেছে।’
তাবাতাবাই আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণের সেবা থেকে সরে দাঁড়াবেন না। একইভাবে ইরানি জনগণও ঐক্য ও প্রতিরোধের পথে পিছিয়ে যাবে না।’
তিনি দাবি করেছেন, ইরানের জাতীয় ঐক্য নষ্ট করার যে আশা এসব মহল করছে, তা কোনদিনও সফল হবে না।
প্রতিবেদনটি সরাসরি ইরান ইন্টারন্যাশনালের সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে, দেশে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসির প্রভাব এত বেড়ে গেছে যে, তিনি কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনা করতে পারছেন না।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আইআরজিসির আধিপত্যের কারণে নির্বাচিত সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখা হচ্ছে এবং তিনি নিজের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্বও সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না।
এ কারণেই তিনি অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে ইরানের সরকার ও আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম এই দাবি অস্বীকার করেছে।
তারা জানাচ্ছে, পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেননি এবং তিনি এখনো তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত যেখানে ইরানের সরকার এবং দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তেজনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি ছোট কিন্তু প্রভাবশালী গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই গোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্য বর্তমান বা সাবেক উচ্চপদস্থ আইআরজিসি কমান্ডার।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, কিছু ইরানি কর্মকর্তার মতে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি ৫৬ বছর বয়সী উত্তরাধিকারী নেতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তবে বাস্তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি একটি কঠোর ও অভিজ্ঞ গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাদের অধিকাংশের রাজনীতি ও সামরিক অভিজ্ঞতা ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে এসে পৌঁছেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন