প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফার টুর্নামেন্টের স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাবকে ঘিরে সৃষ্ট ঝড়ের মাঝেই ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজের তৈরি পরিকল্পনায় ‘ভুল’ ছিল মেনে নিলেও তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমর্থন পেয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতির দায়িত্বে বহাল আছেন।
মরক্কোর রাবাতে বুধবার ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে গভর্নিং বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকেই ইনফান্তিনো এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রস্তাবটি বাতিল করার পরও সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি বাধ্য হয়ে বৈঠক ডাকেন। দীর্ঘ চার ঘণ্টার বৈঠকের পর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সভাপতি ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়।
নতুন একটি সংস্থা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই)-এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
এমনকি যে সদস্য দেশগুলো এই প্রস্তাবে রাজি হবে, তাদের প্রত্যেককে চার কোটি ডলার (প্রায় ৩ কোটি পাউন্ড) দেয়ার প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। গত ২৮ জুলাই ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’-এ পরিকল্পনাটি ফাঁস হওয়ার পর ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। সপ্তাহান্তে উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তারা ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে।
একই সঙ্গে তারা এই প্রস্তাবকে একটি ‘অস্বচ্ছ ও অসাধু অনাকাক্সিক্ষত চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।
ফিফার ভেতরে প্রতিবাদের সুরও উঠেছে। সংস্থার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম স্বয়ং মঙ্গলবার কর্মচারীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ চিঠিতে পুরো ঘটনাকে ‘একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
কিন্তু বুধবারের বৈঠকের পর সেই চিত্র অনেকটা বদলে যায়। যৌথভাবে এক বিবৃতিতে গ্রাফস্ট্রম ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরবর্তীতে ফিফার সহ-সভাপতি, কাউন্সিল সদস্য ও ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো একটি যৌথ চিঠিতে ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রম নিজেদের ভুলের জন্য ‘আন্তরিকভাবে ক্ষমা’ চান এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের পর তাদের দুজনকে রাবাতে উইমেনস আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করতেও দেখা যায়।
ফিফার বিবৃতিতে জানানো হয়, সভায় এফএফই সম্পর্কিত ‘ভুলগুলো’ স্বীকার করা হয়েছে। কাউন্সিলের সদস্য ও বিভিন্ন ফুটবল সংস্থাকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা বা তাদের এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করে সংস্থাটি। গণমাধ্যমে খবর ফাঁস হওয়ার পর পরিস্থিতি যেভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে, সেখানে অযথা ত্রুটি ছিল বলেও তারা মেনে নেয়।
কিন্তু একই সঙ্গে ফিফা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, সংস্থার ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ আর সহ্য করা হবে না এবং সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন