প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে চলমান সংঘাত, লুটপাট ও ভাঙচুরের কারণে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাত মাস ধরে আলাউদ্দিন গংসহ প্রায় ২০০ পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেনি। জামিন লাভের পরেও পুলিশ তাদের গ্রামে প্রবেশে বাধা প্রদান করেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত ও পাঁচজন আটক হওয়ার দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।
তারা বলছেন, তারা বৈধভাবে জামিনে মুক্ত থাকা সত্ত্বেও গ্রামে ফিরতে গেলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। একই মামলার অন্য একটি পক্ষের লোকজন গ্রামে অবস্থান করবে, কিন্তু তাদের থাকতে দেয়ার কথা হচ্ছে না।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম সাংবাদিকদের জানান, “আমরা জানতে পেরেছি এখানে তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছি। অন্য কোনো সমস্যা নেই।” তবে ভুক্তভোগীদের দাবির সঙ্গে তার বক্তব্য মেলে না। তাদের অভিযোগ, পুলিশ বলেছে, “আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না। থাকতে হলে এমপি সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে ২০০টিরও বেশি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ঘরের আসবাবপত্র নয়, প্রায় ৩০টিরও বেশি বাড়ির গ্রিল, দরজা, জানালা ও গেট কেটে নেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মামুন, জিয়া, জীবন, ওবায়েদুল হক, কামাল, শেখ ফরিদ, সজিব, মুন্না, রিংকা, ইউসুফ, ফখরুলসহ ৭০-৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, এর পেছনে একটি প্রভাবশালী পক্ষের ছত্রছায়া কাজ করছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা চললেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেই, যার কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে, ফলে গ্রামটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেছেন, “বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো প্রতিকার পাইনি। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
অন্যদিকে, নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জনের নাম রয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক ৪ জন আহতের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এটি মিথ্যা। আলিয়ারা গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যারা প্রবেশ করেছেন তারা চলে গেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন