প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আরব সাগরের তীরে অবস্থিত আলো ঝলমলে মুম্বাই যেন একটি মোহময় নগরী। এ নগরীতে বলিউডের সেলিব্রেটিদের অধিকাংশই বাস করেন।
কিন্তু এই ঝলমলে আলোয়ের নিচে গহীন অন্ধকারের অবস্থা রয়েছে। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই নগরীর রাস্তাঘাট সব তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। এটি শুধুমাত্র স্থবিরতার সৃষ্টি করে না, বরং অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
এবারের বৃষ্টির পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে গাছ উপড়ে, ভবন ধ্বসে, ম্যানহোলের মধ্যে পড়ে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
এদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্র বিহান শ্রীবাস্তবের মৃত্যুর ঘটনা সকলকে কাঁদিয়ে দিয়েছে। বিহান ছিল বাবা-মার একমাত্র সন্তান এবং মুম্বাইয়ের চেম্বুর এলাকার ইউনিভার্সাল হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ৩০ জুন, স্কুল ছুটি হওয়ার পর বিহান স্কুলবাসে করে বাড়ি ফিরছিল।
রাস্তার পাশে থাকা একটি বিশাল অশ্বত্থ গাছ হঠাৎ করে শিকড়সহ উপড়ে চলে আসলে তা চলন্ত বাসটির ওপর পড়ে যায়। অনিবার্যভাবে ঘটনাস্থলেই বিহান শ্রীবাস্তব মারা যান।
এরপর ১ জুলাই বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপাল করপোরেশন (বিএমসি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি তাদের রিপোর্ট গত সোমবার পেশ করে। সেই রিপোর্ট নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে।
রিপোর্টে রাস্তার ঠিকাদার ও সুপারভাইজারকে দায়ী করা হলেও বিএমসির সড়ক ও উদ্যান বিভাগের কাউকে দায়ী করা হয়নি। রিপোর্টটি বিহানের পরিবারের জন্য ৭ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুপারিশ করে। এর মধ্যে ঠিকাদারকে দিতে হবে ৫ লাখ, আর সুপারভাইজারকে ২ লাখ দিতে বলা হয়েছে।
কিন্তু বিএমসির হাজার অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্টটি বিএমসির সাধারন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যাত হয়। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএমসির সাধারণ সভায় মেয়র ঋতু তাওড়ে তদন্ত রিপোর্টটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং তৃতীয় পক্ষের অধীনে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঋতু তাওড়ে বলেন, 'গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমরা করপোরেশনে সর্বসম্মতভাবে প্রশাসনের ওই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা প্রতিবেদনের অনুলিপিটি ছিঁড়ে ফেলেছি এবং প্রশাসনকে একটি পুনঃতদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি এই ঘটনার পুনরায় খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্যানেলে দুজন কর্পোরেটরকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেছি।'
মেয়র ঋতু তাওড়ে এ তদন্ত রিপোর্টকে অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে বলেন, 'আমি প্রতিবেদনটি পড়ে দেখেছি, যেখানে কেবল ঠিকাদার এবং সুপারভাইজারকে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে, অথচ নাগরিক সংস্থার সড়ক ও উদ্যান বিভাগকে কোনো দোষ দেওয়া হয়নি।'
এর আগে বৃহস্পতিবার বিহানের বাবা গৌরব শ্রীবাস্তব বলেন, 'আমরা আশা করছি যে এই প্রতিবেদনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হবে এবং একটি পুনঃতদন্ত হবে, যা হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ এবং এর মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।'
বিহানের বাবা সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, অবহেলার একটি বিষয়কে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'এটি প্রমাণ হওয়া উচিত যে এটি মানুষের অবহেলা এবং এ ঘটনার সাথে যুক্ত থাকা পুরো ব্যবস্থার মানুষদের শাস্তি হওয়া উচিত। আমি মনে করি তাতেই বিচার পাওয়া যাবে এবং কিছু নতুন নিয়ম তৈরি করা উচিত অথবা প্রক্রিয়ার উন্নতি করা উচিত, যাতে আগামী বর্ষায় অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একই ঘটনা না ঘটে।'
মেয়রের কণ্ঠেও গৌরবের কথার অনুরণন পাই, 'আমিও একজন মা। তাদের সন্তান চলে গেছে। তাদের সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য ৭ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে, যার আমি তীব্র বিরোধিতা করছি। আমি বর্ষার আগে ব্যক্তিগতভাবে সেই রাস্তাটি পরিদর্শন করেছিলাম এবং সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে দুর্বল গাছগুলোর বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম। আমরা একটি মূল্যবান জীবন হারিয়েছি, আর তারা তার মূল্য নির্ধারণ করেছে ৭ লাখ টাকা। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন