প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং মন্তব্য করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোনো একক দেশের কুক্ষিগত থাকা উচিত নয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এক বড় সম্মেলনে তিনি এআই প্রযুক্তির উন্নয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেন।
অংশগ্রহণ করার সময় তিনি বিশেষ করে ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে এআই প্রযুক্তিতে ‘জনকল্যাণমুখী’ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেন।
এই সম্মেলনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, কম খরচের কারণে চীনের এআই মডেলগুলো বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের কাছে আকর্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে।
তবে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এবং হ্যাকার বা অপরাধীদের দ্বারা এর অপব্যবহারের উদ্বেগের মধ্যে এই দ্রুত বর্ধনশীল খাতকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিজের বক্তব্যে শি জিন পিং উল্লেখ করেন ‘নতুন কোনো ঐতিহাসিক অবিচার’ রোধে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার কথা।
এ লক্ষ্যে তিনি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া এবং ব্রিকস দেশগুলোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার এবং এআই-সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
এআইয়ের উন্নয়ন কোনো একক দেশের ‘একক পারফরম্যান্স’ হওয়া উচিত নয়, বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ঐকতান, এমনটাই মন্তব্য করেন শি জিন পিং।
তিনি আরও বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিত করা উচিত নয় অথবা অন্য দেশের নিরাপত্তার তুলনায় কোনো একক দেশের নিরাপত্তাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।
‘এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে’—এ কথা উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনের প্রযুক্তি আমদানির ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এছাড়া, শীর্ষ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সম্প্রতি ওয়াশিংটন তথা মার্কিন এআই ল্যাবগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
গত মে মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ চীনের বাইরে অবস্থিত চীনা কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ নিশ্চিত করে একটি নোটিশ জারি করে।
এতে বলা হয়, যেসব ব্যবসার সদর দপ্তর বা মূল কোম্পানি চীনে রয়েছে, সেসবের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক এআই চিপ রপ্তানির লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে প্রযোজ্য হবে।
শুক্রবার সম্মেলনে শি জিন পিং মানব-নিয়ন্ত্রিত ‘জনকল্যাণমুখী’ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আমাদের উচিত আইন ও বিধিমালা, প্রযুক্তিগত নজরদারি, আগাম সতর্কতা এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বর্তমানে এআই প্রযুক্তি চীনের শিল্পনীতির একটি কৌশলগত স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।
চিপ উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহার পর্যন্ত একটি দেশীয় ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে।
কর্তাদের মতে, গত দুই বছরে চীন দেশটিতে এআই ব্যবহারের একক হিসেবে পরিচিত ‘টোকেন’-এর দৈনিক ব্যবহার হাজার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও, এআই চিপ দ্বারা পরিচালিত বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে চীন অনেক এগিয়ে আছে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) তথ্যমতে, একটি সাধারণ ডেটা সেন্টার এক লাখ বসতবাড়ির সমান বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
এবং পরবর্তী প্রজন্মের ‘হাইপারস্কেল’ সুবিধাগুলো ২০ লাখ বাড়ির সমান বিদ্যুৎ গিলে ফেলতে পারে।
সস্তায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার সুবিধার কারণে চীনের পক্ষে এ ধরনের বিশাল শক্তির চাহিদা মেটানো তুলনামূলক সহজ।
এই পরিস্থিতিতে, দেশটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে।
দেশটির জ্বালানি গ্রিডে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের কারণে ভবিষ্যতে এই ব্যবধান আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন