প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে রিহ্যাবের এক সদস্যের ওপর শারীরিক নির্যাতন, সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বদ্ধমূল দাবী করেছে, যাতে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তারা আশা করছে, ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর রিহ্যাব প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বরিশালে রিহ্যাব সদস্য, বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনা আসলে শুধু একজন উদ্যোক্তার ওপর হামলা নয়, বরং দেশের নিরাপদ ও ভয়ভীতিমুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপরও গুরুতর আঘাত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপ রিহ্যাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ভিডিওতে প্রকাশিত দৃশ্যগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
ড. আলী আফজাল মন্তব্য করেন, এ ঘটনার পেছনে মামলা দায়েরের পর কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত জামিনের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে নানা উপায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান, বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই অংশগ্রহণ করতে পারেন।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, দেশে আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই, এ খাতের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভয়ভীতি, জোরজবরদস্তি, চাঁদাবাজি, শারীরিক নির্যাতন কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে দাবি আদায় করা কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসায়িক বা আর্থিক বিরোধ হলে তা আইন এবং বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। একইভাবে যদি কোনো উদ্যোক্তা আইন লঙ্ঘন করে, তবে তার বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব চার দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো— ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল, পরিচালক হাবিবুর রহমান হাবিব, পরিচালক শেখ কামাল, পরিচালক মো. এমদাদুল হোসেন সোহেলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিহ্যাব সবসময় আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের আবাসন খাতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে।
রিহ্যাব আশা প্রকাশ করেছে যে, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো উদ্যোক্তা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার শিকার না হন এবং দেশের বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন