প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশীয় মৎস্য চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে গ্রামীন নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের আওতায় মাছ চাষের জন্য চুন, মাছের রেনু, ঝাকি জাল, ব্লু নেট, রাসায়নিক সার, অক্সিজেন মেশিন, মাছের খাবার এবং নগদ টাকা সহ বিভিন্ন প্রকার উপকরন প্রদান করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ। কলাপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিলুপ্ত প্রায় পুষ্টিসম্পন্ন প্রজাতির মাছ, যেমন মলা, পুটি, ভেটকি ইত্যাদি চাষের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ৬৪ টি প্রদর্শনের আয়োজন করেছে এই সংস্থা। এর ফলে গ্রামীন নারী ও পুরুষেরা স্বাবলম্বী হতে সক্ষম হয়েছেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মৎস্য খাতের ওপর মোট ৭৪টি কার্যক্রমের মধ্যে ৬৪টি প্রদর্শনী মৎস্য চাষীদের জীবনের মান উন্নয়নে সফলভাবে কার্যকর করেছে হীড বাংলাদেশ’র এগ্রো মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট। এর মধ্যে ১০টি মাছের পোনা চাষের জন্য, ১টি অক্স্রিজেনেটেড ভ্যান এবং ৫টি দ্রুত বর্ধনশীল জি ৩ রুই মাছের প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রদর্শনীগুলোর জন্য চুন, মাছের রেনু, ঝাকি জাল, সাইন বোর্ড, ব্লু নেট, রাসায়নিক সার, রেকর্ড বুক, অক্স্রিজেন মেশিন, ড্রাম, ভ্যান, ব্যটারী, বাকেট নেট ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়েছে। মাছের আইশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে ৩টি উদ্যোক্তা তৈরি এবং আইশ ক্রয় বাবদ নগদ টাকা, দা, বটি, প্লাস্টিক কন্টেইনার, পাটাতন, গ্লাভস, মশারী সহ বিভিন্ন প্রকার উপকরন সরবরাহ করা হয়েছে।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলুপ্তপ্রায় পুষ্টিসম্পন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষের জন্য ৫টি প্রদর্শনী, বড় মাছ উৎপাদনে ১২টি, ভাসমান খাচায় মাছ চাষে ৫টি, মলা মাছের ব্লুড ব্যাংক ৫টি, এবং দেশীয় মাছ চাষে ১০টি প্রদর্শনী করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে মলা, পুটি, রুই, তেলাপিয়া, ভেটকি মাছের পোনা সহ বিভিন্ন উপকরন প্রদান করা হয়েছে। মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণ ১টি, ফিস ফিডের উদ্যোক্তা ১টি, এবং ব্লাক সোলজার ফ্লাই দ্বারা মাছের খাবার তৈরীর জন্য ২টি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। এসব উদ্যোক্তাদের জন্য তিনটি ব্যাচে মোট ৬০ জন সদস্যদের প্রশিক্ষণ শেষে সব ধরনের উপকরন প্রদান করা হয়েছে।
সুফলভোগী কচিরা রানী, শিল্পি রানী, রমিন সরকার অভিযোগ করেছেন যে, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ তাদের দেশীয় মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রিতে মাছ চাষের জন্য সব ধরনের উপকরন দিয়েছে। বর্তমানে তারা দেশীয় মাছের খামার করে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি বাজারে মাছ বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ পাখিমারা শাখার মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, কলাপাড়া উপজেলায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে হীড বাংলাদেশ এগ্রো মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট গ্রামীন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মোট ৭৪ টি কার্যক্রমের মধ্যে ৬৪ টি প্রদর্শনী মৎস্য চাষীদের জীবিকার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আগামীতে বাজেট সাপেক্ষে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে চলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন