প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী ঢাকায় সামান্য বৃষ্টির ফলে যেন নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে যায় সড়ক, অলিগলি এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো। জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায় এবং লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এই অবস্থায় যানজটও সৃষ্টি হয়। নগরবাসীরা এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে, সারা দেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় রয়ে গেছে এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা অব্যাহত থাকতে পারে, এ বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
রোববার (২১ জুন) বিকেল থেকে ঢাকার আকাশ অন্ধকার হতে শুরু করে। শুরুতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অফিস ছুটির সময় মুষলধারায় পরিণত হয়। দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে যায়। অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসীর ভোগান্তির মাত্রা চরমে পৌঁছে যায়। রোববারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যায়। অফিস থেকে বাড়িতে ফিরতে যাওয়া জনগণ ভয়াবহ বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেক দোকানপাটও বন্ধ রাখতে হয়।
বৃষ্টির কারণে মিরপুর, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, পল্টন, শান্তিনগর সায়েদাবাদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর একই সমস্যা ঘটে অথচ কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
জলাবদ্ধতা সমাধানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নগরবাসী।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির অগ্রগতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং আবহওয়া অধিদফতর এমন তথ্য জানিয়েছে।
বিকেলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তীকালে ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এছাড়া সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরের ডিমলায়। এক্ষেত্রে দেশের সর্বাধিক তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরের ডিমলায় ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতর যেকোনো লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উত্তর অংশে সক্রিয় এবং দেশটির অন্যান্য অংশে মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। মৌসুমী বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন