প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ সকল কার্যালয়কে শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যা অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। এখন থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যক্রম তামাক নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে পরিচালিত হবে।
সোমবার, রাজধানীর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সকল কার্যালয়কে শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি উল্লেখ করেন, খাদ্য কর্তৃপক্ষের সকল কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠানটির সেবা নিতে আসা নাগরিকদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, "তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় ৭০০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৫০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে ও মৃত্যু ঘটায়।" তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকের কারণে প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। গ্যাটসের তথ্যমতে, আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২.৭ শতাংশ ও সরকারি কার্যালয়ে ২১.৬ শতাংশ অধূমপায়ী নারী-পুরুষ পরোক্ষ ধূমপানজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করে এবং প্রায় ৪ কোটি মানুষ ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি, ৪২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। সুতরাং, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সকলকে রক্ষায় সকল পাবলিক প্লেসকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিধিমালা প্রণীত হলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও স্পষ্ট নির্দেশনা পাবে।
এ সময় বক্তারা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতি থেকে সকলকে রক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানান। তারা বলেন, "বিধিমালা প্রণয়ন বিলম্বিত হলে আইনে অন্তর্ভুক্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলোর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে দেরি হবে।"
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সহকারী ডা. নায়লা পারভিন, আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন