প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকট। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ আইজেনকটকে এই দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তবে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাকে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি হতে হবে।
গত শনিবার প্রেসিডেন্ট হারজোগের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে, গত সপ্তাহের নির্বাচনে কোনো পক্ষই ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ আইজেনকটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।
নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এ সময় আরো ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, "এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময় এসেছে। জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান রেখে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।"
নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি ও তার মিত্র দলগুলো পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকটের মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টি এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য তিনটি বিরোধী দল মিলে পেয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোটÑজয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট।
নির্বাচনে আরব দলগুলোর এ ফলাফল তাদের সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাদের সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব। তবে, আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন বা তাদের সমর্থন নেওয়ার বিষয়ে আইজেনকটের জোটের ভেতরে মতভেদ রয়েছে।
নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট হারজোগের সঙ্গে আলোচনায় নেসেটের ৬৭ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ইসরাইলের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে হবেÑ এমন বাধ্যবাধকতা নেই। কোন নেতা জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার গঠনে বেশি সক্ষম, তা বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নতুন সরকার গঠনে আইজেনকটের সামনে কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন, আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা অথবা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনÑ এসব সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে, প্রতিটি পথেই রয়েছে রাজনৈতিক জটিলতা।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষেও সরকার গঠনের সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে, তার জোটের ৫৩টি আসন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে আটটি কম। ফলে, সরকার গঠন করতে হলে তাকে বিরোধী শিবিরের কোনো দলের সমর্থন আদায় করতে হবে।
ইসরাইলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে সরকার গঠনের চুক্তি করেছিলেন।
নির্বাচনের পর থেকেই নতুন নির্বাচন এড়ানো এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরাইলে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থতা দেশটিকে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। সূত্র : রয়টার্স, এপি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন