প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পূর্ববিরোধ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহ আলমগীর (২৩) নামে এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও মুখোমুখি হয়। পরে থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। তাঁদের অনেকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত শাহ আলমগীরসহ চারজনকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহ আলমগীরের প্রতিবেশী ও আত্মীয় সানোয়ার ফকির বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের নেতৃত্বদানকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। নিহত শাহ আলমগীর স্থানীয় লিগেল মিয়া ও জালাল মিয়া পক্ষের সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুর রহমানের অনুসারীরা।
খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিগেল মিয়া চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাবা মো. জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটিতে তাঁর পদ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবি, তিনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। আবার একটি তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘সম্মানিত সদস্য’ উল্লেখ রয়েছে।
সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই পরস্পরকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে স্থানীয়ভাবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
শাহ আলমগীরের মৃত্যুর পর রানীচাপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুটি মামলা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন