প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরব হারালো তার এক বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জননন্দিত জনপ্রতিনিধি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। ভৈরব পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র, ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাস সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টায় ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ সোমবার বাদ মাগরিব ভৈরবপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর মৃত্যুতে ভৈরবজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী মহলসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাস একজন সৎ, নীতিবান এবং জনমুখী জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়েও তিনি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। জনগণের স্বার্থকে তিনি সবসময় দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতেন।
ভৈরব পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষরের আগে তিনি নিজেই প্রতিটি কাগজপত্র মনোযোগ দিয়ে যাচাই করে দেখতেন, যাতে সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে কোনো জটিলতার মুখোমুখি না হন। দায়িত্ববোধ, সততা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ছিল তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তাঁর অবদান ভৈরববাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পরিকল্পিত আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, আধুনিক ভৈরবের ভিত্তি নির্মাণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
সহকর্মীদের ভাষ্য, দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। দিনের অধিকাংশ সময় তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে কাটাতেন। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেও ভোরেই আবার কর্মস্থলে উপস্থিত হতেন। ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের চেয়ে জনসেবাকেই তিনি জীবনের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন ব্যতিক্রমী। তিনি সংসার জীবন গড়ে তোলেননি এবং স্ত্রী-সন্তান রেখে যাননি। আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি ভৈরবের সাধারণ মানুষই ছিল তাঁর বৃহত্তর পরিবার। মানুষের ভালোবাসা, আস্থা এবং শ্রদ্ধাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাসের মৃত্যুতে ভৈরবের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে একটি অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁর আদর্শ, সততা, জনসেবার দৃষ্টান্ত এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভৈরববাসীর কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন